Our Concern
Ruposhi Bangla
Hindusthan Surkhiyan
Radio Bangla FM
Third Eye Production
Anuswar Publication
Ruposhi Bangla Entertainment Limited
Shah Foundation
Street Children Foundation
September 12, 2026
হেডলাইন
Homeআন্তর্জাতিকযুক্তরাজ্যে রাজতন্ত্রবিরোধী বিক্ষোভ

যুক্তরাজ্যে রাজতন্ত্রবিরোধী বিক্ষোভ

যুক্তরাজ্যে রাজতন্ত্রবিরোধী বিক্ষোভ

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে যুক্তরাজ্যজুড়ে গত কয়েকদিন ধরে রাস্তায় নেমে আসছে শত শত মানুষ। কেউ শোক প্রকাশ করতে, আবার কেউ বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে। রানির মৃত্যু ও তার বড় ছেলে চার্লসের রাজা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে রাজতন্ত্রবিরোধী বিক্ষোভ চলছে।

সেই সঙ্গে রাজতন্ত্র ও নতুন রাজা কিং চার্লসকে অস্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ‘নট মাই কিং’ শিরোনামে প্রচারণা। তবে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় ধরপাকড় করছে দেশটির পুলিশ। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

এদের মধ্যে অন্তত একজনকে আটকের পর হাতকড়া পরানো হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের এমন ব্যবহারে দেশটিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন রাজতন্ত্রগুলোর একটি ব্রিটিশ রাজতন্ত্র। বয়স প্রায় ১ হাজার বছর। ইতিহাস বলছে, ১০৬৬ সালে উইলিয়াম দ্য কনকারার ইংল্যান্ড জয় করে নিজেকে একক রাজা হিসেবে ঘোষণা করেন।

ইংল্যান্ডের ছোট ছোট রাজতন্ত্রগুলো উচ্ছেদ করে তিনি একক রাজতন্ত্র সৃষ্টি করেন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত টিকে থাকা এ রাজতন্ত্র মোট ৬১ জন রাজা বা রানি পেয়েছে।

বর্তমান বিশ্বে রাজপরিবারগুলোর প্রভাব-প্রতিপত্তি আর আগের মতো নেই। কিছু দেশে রাজপরিবারগুলো একেবারেই বিলীন হয়ে গেছে। অধিকাংশ দেশেই তাদের সম্মানজনক একটি আসনে বসানো হয়েছে। ক্ষমতার অনেকটা চলে গেছে জনগণের হাতে। কিছু রাজপরিবার টিকে থাকার লড়াই করে যাচ্ছে।

এদিক থেকে ব্রিটিশ রাজপরিবার বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এক সময় পৃথিবীর অর্ধেক অঞ্চল ব্রিটিশ রাজতান্ত্রিক শাসনে ছিল। তখন একে ‘গ্রেট ব্রিটেন’ বলা হতো। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পরিধি ছোট হয়ে এসেছে। তিনটি রাজ্যের সমন্বয়ে গঠিত ব্রিটেন এখন যুক্তরাজ্য হিসেবে পরিচিত।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় চালিত দেশটিতে রাজতন্ত্র এখন কেবল প্রতীকী বিষয়। সাংবিধানিকভাবে রাজপরিবারের ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে। তবে রাজপরিবারকে নিয়ে দেশটির মানুষের মধ্যে এখনও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। বিপরীতে রাজতন্ত্রবিরোধী মানুষের সংখ্যাও কম নয়।

প্রায় ৭০ বছরের রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে গত সপ্তাহে (৮ সেপ্টেম্বর) মারা যান রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজা হন সিংহাসনের উত্তরাধিকর বড় ছেলে চার্লস। রানিকে এখনও সমাহিত করা হয়নি। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।

রানির মৃত্যুতে ব্রিটিশ জনগণের পাশাপাশি বিশ্বের মানুষ শোক প্রকাশ করছে। তবে এর সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রবিরোধী ক্ষোভ ও আবেগও বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েকদিন ধরে যুক্তরাজ্যজুড়েই বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছে শত শত মানুষ। কিন্তু রাজতন্ত্রবিরোধী এসব বিক্ষোভে খড়গহস্ত হচ্ছে পুলিশ।

রাজতন্ত্রবিরোধী বিক্ষোভ ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের অভিযোগে গত কয়েক দিনে স্কটল্যান্ডের পুলিশ অন্তত দুজনকে আটক করে। এ ছাড়া অক্সফোর্ডেও এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ, পরে অবশ্য তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রানি এলিজাবেথের মরদেহ যখন স্কটল্যান্ড থেকে লন্ডনের পথে আনা হচ্ছিল, তখন তার হাজারো ভক্ত ফুল হাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল। এ সময় অনেকে রাজতন্ত্রবিরোধী প্ল্যাকার্ড হাতেও দাঁড়িয়ে ছিলেন।

একজন প্রতিবাদকারী ‘নট মাই কিং’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে লন্ডনের সংসদ ভবনের বাইরে দাঁড়ান। ‘নট মাই কিং’ এখন রাজতন্ত্রবিরোধিতার প্রধান স্লোগান। টুইটারসহ সামাজিক মাধ্যমে রাজতন্ত্রবিরোধীরা হ্যাশট্যাগ ‘নট মাই কিং’ লিখে হাজার হাজার পোস্ট দিচ্ছেন।

সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) এডিনবার্গের রয়্যাল মাইল এলাকায় রাজকীয় পদযাত্রা চলাকালে প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করার দায়ে ২২ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে গত শনিবার চার্লসকে রাজা ঘোষণার সময় এডিনবার্গের সেন্ট জাইলস ক্যাথেড্রালের বাইরে রাজতন্ত্রবিরোধী প্রতিবাদের সময় ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে আটক করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে শান্তি বিঘ্নিত করার অভিযোগ আনা হয়।

একই দিনে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সাইমন হিল নামে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। অক্সফোর্ডে আরেকটি অনুষ্ঠানের সময় তৃতীয় চার্লসকে ‘কে তাকে রাজা নির্বাচন করেছে’ এই স্লোগান দেয়ার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। একের পর এক বিক্ষোভকারী আটকের ঘটনায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা ইনডেক্স অব সেন্সরশিপের প্রধান নির্বাহী রুথ স্মিথ বলেন, রাজতন্ত্রবিরোধীদের আটকের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এই দেশের নাগরিকরা যাতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করতে পারেন, সেজন্য পরিকল্পিত অথবা অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনা এড়াতে হবে।

ব্রিটেনের লেবার পার্টির এমপি জারাহ সুলতানা বলেন, মতপ্রকাশের অভিযোগে কাউকে গ্রেফতার করা উচিত নয়।

Share With:
Rate This Article