Our Concern
Ruposhi Bangla
Hindusthan Surkhiyan
Radio Bangla FM
Third Eye Production
Anuswar Publication
Ruposhi Bangla Entertainment Limited
Shah Foundation
Street Children Foundation
June 13, 2026
হেডলাইন
Homeপ্রবাসএনওয়াইপিডির গোয়েন্দা বিভাগে বাড়ছে বাংলাদেশি অফিসার

এনওয়াইপিডির গোয়েন্দা বিভাগে বাড়ছে বাংলাদেশি অফিসার

এনওয়াইপিডির গোয়েন্দা বিভাগে বাড়ছে বাংলাদেশি অফিসার

গত (শুক্রবার) ১ এপ্রিল  তিনজন বাংলাদেশি-আমেরিকান এনওয়াইপিডির গোয়েন্দা বিভাগ তৃতীয় গ্রেড থেকে সম্মানজনক দ্বিতীয় গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছেন। এছাড়া একজন পুলিশ অফিসার থেকে গোয়েন্দা বিভাগের তৃতীয় গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছেন। এর বাইরে ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট লেভেল ২ থেকে অ্যাসোসিয়েট ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট লেভেল ১-এ উন্নীত হয়েছেন:  মোহাম্মদ আর ইসলাম, সুলতানা জাহান, কার্তিক মল্লিক, এমডি আর ইসলাম, ফারজানা মোতাইদ, আবরুর আর খান। ওয়ান পুলিশ প্লাজায় এ পদোন্নতি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। কমিশনার কিচ্যান্ট সেওয়েল, চীফ অফ ডিপার্টমেন্ট কেনেথ কোরি এবং পুলিশ কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত গোয়েন্দা মাসুদ রহমান ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের নোয়াখালী থেকে পরিবারের  সাথে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন।  পিতার নাম (মৃত) নুরুল ইসলাম। তিনি বিএমসিসি থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তিনি ২০০২ সালে একজন পুলিশ অফিসারের পদে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন। অপরাধ তদন্ত কাজের পাশাপাশি, ডিটেকটিভ মাসুদ  রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য অনেক দেশের জন্য একজন বিশিষ্ট সুরক্ষা কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি তার কাজের জন্য নিউইয়র্ক সিটির অন্যান্য কমিউনিটিসহ বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সুপরিচিত।
ডিটেকটিভ মোহম্মদ হোসেন ১৯৯০ সালে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তার পিতার নাম আব্দুল খালিক। তারা সিলেটের বিয়ানী বাজারের আরিজখাটিলা গ্রামের অধিবাসী। হাই স্কুল ফর হেলথ প্রফেশনস অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস থেকে স্নাতক হন।  নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটির লেম্যান কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।  তিনি ২০০৬ সালে নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। ডিটেকটিভ হোসেন সম্পর্কে তার সাবেক সুপারভাইজার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামসুল হক বলেন, ‘ডিটেকটিভ হোসেন একজন স্মার্ট, বিশদ-ভিত্তিক, প্রতিভাবান এবং অস্বাভাবিকভাবে তার কাজের প্রতি নিবেদিত।
এই পদোন্নতিতে অপর ডিটেককটিভ মোহাম্মদ আলী ১৯৯৭ সালে ডাইভারসিটি ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তার পিতা মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন মজুমদার, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত উপসচিব। ডিটেককটিভ আলী যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী হওয়ার আগে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে স্নাতক হন। ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজ থেকে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি শেষ করার পর, কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং গণিতে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন নিউ ইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি ব্রুকলিন কলেজে। ২০০৬ সালে নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে যোগ দেন এবং ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে একটি বিশেষ ইউনিটে নিয়োগ পান। ২০০৮ সালে গোয়েন্দা বিভাগের তৃতীয় গ্রেড পদে উন্নীত হন। দিলরুবা জাহান-আলী দম্পতির তিনটি সন্তান রয়েছে।
গোয়েন্দা আসহাফিক চৌধুরীর জন্ম এবং বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রে। তার বাবার নাম সেলিম চৌধুরী এবং মায়ের নাম শাহনাজ চৌধুরী। তার বাবা-মা ফেনী বাংলাদেশের জেলার বাসিন্দা। তিনি বেঞ্জামিন কার্ডোজো হাই স্কুল থেকে স্নাতক হন এবং সিটি কলেজে প্রাক-আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তিনি ২০১৭ সালে নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। ২০১৯ সালে পেট্রোল বরো কুইন্স নর্থ অ্যান্টি-ক্রাইম টিমে কাজ যোগ দেন। এরপর তাকে কুইন্সের জ্যামাইকার ১০৩তম ডিটেকটিভ স্কোয়াডে পুলিশ অফিসার হিসাবে কাজ করেন। সম্প্রতি গোয়েন্দা পদে পদোন্নতি পান।
বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন কারাম চৌধুরী এক বিবৃতিতে পদোন্নতি  প্রাপ্তদের অভিনন্দিন জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, একজন ডিটেকটিভের পক্ষে দ্বিতীয় গ্রেড পাওয়া কঠিন। বাংলাদেশি-আমেরিকান যারা গোয়েন্দা বিভাগে পদোন্নতি পেয়েছেন তাদের কাজ অনুকরণীয় এবং তারা আমাদের গর্ব, কমিউনিটির গর্ব।  এছাড়া  বাপার পক্ষ থেকে  ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এরশাদুর সিদ্দিক, জেনারেল সেক্রেটারি লেফটেন্যান্ট প্রিন্স আলম পদোন্নতি প্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান।
এনওয়াইপিডি এখন বাংলাদেশি-আমেরিকানদের কাছে আকর্ষণীয় পেশায় পরিণত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের সুনামের কথা উল্লেখ করে বাপা’র মিডিয়া লিয়াজোঁ ডিটেকটিভ জামিল সারোয়ার জনি জানান,  বর্তমানে আনুমানিক ১৪৫০ জন বাংলাদেশি এনওয়াইপিডির বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন।  যাদের মধ্যে ৪ জন ক্যাপ্টেন, ১ জন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার, ৯ জন লেফটেন্যান্ট, কয়েক ডজন সার্জেন্ট ডিটেকটিভ এবং পুলিশ অফিসারসহ ৪৫০ জন ইউনিফর্ম অফিসার রয়েছেন। এছাড়াও এনওয়াইপিডিতে  প্রায় ১১শ’ সিভিলিয়ান লোক নিযুক্ত রয়েছেন। তারা স্কুল সেফটি এজেন্ট, ট্রাফিক এজেন্ট, স্কুল ক্রসিং গার্ড হিসাবে কর্মরত এবং সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
Share With:
Rate This Article