দিল্লিতে হিন্দুত্ববাদীরা ৮৫ বছরের আকবরিকে পুড়িয়ে মারল
ছেলেরা সাইদ সালমানিকে বলেছিল, ‘বাবা খুব খিদে পেয়েছে। ঘরে একফোঁটা দুধ নেই।’ শাহদারার গমরী তখন থমথমে। দোকানপাট বন্ধ। দূরে জটলা চিত্কার। কখনও কখনও বোমার আওয়াজ।
সন্তানদের পেটের খিদে মেটাতে প্রাণ হাতে নিয়ে বাইরে বেরিয়েছিলেন কাপড় ব্যবসায়ী সইদ সালমানি। কিন্তু কে জানত বাড়ি ফিরে তাঁকে দেখতে হবে, চোখের সামনে তাঁর বৃদ্ধা মাকে জ্বলতে!
সালমানি জানান, সকাল ১১টা নাগাদ বাড়ির বাইরে বেরিয়ে ছিলাম দুধ কিনতে। ফিরে এসে দেখি শ’ দুয়েক দুষ্কৃতী তাণ্ডব করে বেড়াচ্ছে বাড়ি জুড়ে। তখন কে হিন্দু, কে মুসলিম ভাবার সময় পায় নি। ছুটে গিয়েছি সন্তানদের বাঁচাতে।
সালমানির কথায়, ‘ওরা খুঁজছিল আমায়। হত্যা করতে।’ও দিকে তাঁর ৪ সন্তান চিৎকার করছে ‘পাপা আমাদের বাঁচাও।’
মা আকবরী আটক ওপরতলায়। নিচে কাপড়ের দোকান দাউ-দাউ করে জ্বলছে। সন্তানরা কোনও ভাবে প্রাণে বাঁচলেও, বৃদ্ধা মা-র ঘরেই মৃত্যু হয় বলে জানান সালমানি।
দশ ঘণ্টা পর আকবরীর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। শরীরের বেশকিছু জায়গায় ঝলসে গিয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়েই মৃত্যু হয়েছে আকবরীর।
দিল্লির বেশ কিছু জায়গায় এখন শ্মশানের শান্তি। ধ্বংসস্তুপে ধিকধিক করে জ্বলছে আগুন। মানুষের মনে আতঙ্ক, স্বজনহারা আর্তনাদ, গুমোট বাতাসে পোড়া পোড়া গন্ধ। ♦








