মেক্সিকোতে ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্প
১৯৮৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে মেক্সিকোতে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। এরপর কাকতালীয়ভাবে ২০১৭ সালেরও একই দিনে আরেক ভয়াবহ ভূমিকম্পে দেশটিতে মৃত্যু হয় ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষের। ফলে এ দিনটিকে অভিশপ্ত বা অশুভ বলে মনে করেন অনেক মেক্সিকান। এবার সেই ১৯ সেপ্টেম্বরই আবারও বড় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশটি। এতে এখন পর্যন্ত দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা।
খবরে জানানো হয়েছে, উত্তর আমেরিকার দেশটিতে সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে কম্পনটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৬। সীমান্তবর্তী মিচোয়াকেন এবং কোলিমা এলাকায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল মাত্র ১৫ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের ঘটনা লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
অনেকে ঘরবাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় বন্দর মানজানিলোতে একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের ছাদ ধসে একজন নিহত হয়েছে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল সংলগ্ন পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মিচোয়াকানের বেশ কয়েকটি হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি হাসপাতালের কাঁচ পড়ে একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এক ভিডিও বার্তায় মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপে বন্দর এলাকায় ভূমিকম্পে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এর বাইরে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র মেক্সিকো উপকূলের কিছু অংশের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। তারা বলছে, জোয়ারের স্তরের ওপর তিন থেকে ৯ ফুট পর্যন্ত ঢেউ উঠতে পারে।
আর্নেস্টে লানজেটা নামের একজন ব্যবসায়ী ১৯ সেপ্টেম্বর দিনটিকে মেক্সিকোর ইতিহাসে ‘আতঙ্কের’ বলে উল্লেখ করেছেন। কেননা, ১৯৮৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে দেশটিতে সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। ২০১৭ সালের একই দিনে আরেক ভূমিকম্পে মৃত্যু হয় ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষের। ৩৪ বছর বয়স্ক ইসা মন্টেজ বলেন, এটিকে এখন একটি অভিশাপই মনে হচ্ছে।
যদিও ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অব মেক্সিকো অবশ্য বলছে, তিনটি বড় ভূমিকম্পের তারিখ মিলে যাওয়ার কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। এটি পুরোপুরি কাকতালীয়। ভূমিকম্পের পর মেক্সিকো সিটিতে কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ চলে যায়। যদিও ভূমিকম্পের উৎস থেকে এই শহরের দূরত্ব ছিল ৪০০ কিলোমিটার। এছাড়া উৎস থেকে কাছে মিচোয়াকান শহরে বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কাঁচ পড়ে একাধিক মানুষ আহতের খবর দিয়েছে রয়টার্স।








