ওয়েস্টমিনস্টার হলে রানীকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ মানুষ
জাতীয় পর্যায়ে শোকের সময় শেষ। তবে বৃটিশ রাজপরিবারে আরও এক সপ্তাহ শোক পালন করা হবে। এ সময়ে সরকার বলেছে, লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার হলে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথকে ‘লাইং ইন স্টেট’ বা কফিন শায়িত থাকা অবস্থায় সেখানে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ শোকার্ত মানুষ।
৭০ বছরেরও বেশি সময় সিংহাসনে আসীন থাকা অবস্থায় মারা যান রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। সোমবার তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান ও সর্বশেষ সমাহিত করার নজরকাড়া ও ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের জন্য বিশ্ববাসীর দৃষ্টি ছিল লন্ডনে। এদিন বৃটেনের ইতিহাসে এ যাবত দেখা যায়নি, এমন অন্যতম সর্ববৃহৎ সামরিক পদযাত্রা (প্রসেশন) আয়োজন করা হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মঙ্গলবার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। যেসব সড়ক দিয়ে রানীর কফিন বহন করা হয়েছে, সেসব সড়কে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে গাড়ি। কর্মজীবী মানুষ ছুটছেন অফিসে। লন্ডনের রাস্তাগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে।
কমপক্ষে ১০ দিন পুরো দেশে স্বাভাবিকতা ছিল স্থগিত। তারপর মঙ্গলবার শোক প্রকাশের ইতি ঘটে। কিন্তু রাজপরিবার আরও এক সপ্তাহ শোক পালন করবে। এ সময়ে রাজকীয় বাসভবনগুলোতে পতাকা থাকবে অর্ধনমিত।
সোমবার রাষ্ট্রীয় সম্মানের সঙ্গে রানীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সাড়ে চারদিন আগে জনসাধারণ তাদের প্রিয় রানীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ওয়েস্টমিনস্টার হলে। সেখানে শায়িত অবস্থায় কফিনে রাখা হয়েছিল মৃতদেহ। ফলে রানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সার্বক্ষণিক মানুষের ভিড় লেগেই ছিল। এমনকি তারা টেমসের তীরে রাত্রি পর্যন্ত যাপন করেন। সঙ্গে নিয়ে যান প্রয়োজনীয় রসদ। এক পর্যায়ে তাদের এই ভালবাসা, অকৃত্রিমতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ছুটে যান রাজা তৃতীয় চার্লস ও তার ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম। তাদের এই দীর্ঘ অপেক্ষা, রানীর প্রতি ভালবাসার জন্য ধন্যবাদ জানান তারা।
বৃটেনের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী মিশেল ডোনেলেনের মতে, রানীর কফিন ওয়েস্টমিনস্টার হলে শায়িত অবস্থায় থাকার পর তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। মন্ত্রীর দপ্তর টেমস নদীর দক্ষিণ তীর সহ মাইলের পর মাইল দীর্ঘ জনতার লাইন আয়োজন করে। তবে তার দেয়া এই সংখ্যা চূড়ান্ত নয়। মিডিয়ার খবরে বলা হয়, এই লাইনে অংশ নিয়ে শ্রদ্ধা জানানো মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ পর্যন্ত হতে পারে। তবে এ সংখ্যাকে ‘মিডিয়ার আন্দাজ’ বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
ওদিকে ২০০২ সালের এক ব্রিফিং নোটে হাউজ অব কমন্স জানায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের কফিনে এভাবে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন ৩,২১,৩৬০ জন মানুষ। চার্চিল মারা গিয়েছিলেন ১৯৬৫ সালে। আর কুইন মাদারকে ২০০২ সালে এভাবে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন প্রায় দুই লাখ মানুষ।








