বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ডা. মঈনের মৃত্যু
নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মঈন উদ্দীন মারা গেছেন। দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত প্রথম চিকিৎসক হিসেবে তার মৃত্যু হলো।
বুধবার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
তিনি ছিলেন ওসমানী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক। তার বয়স হয়েছিল ৫০-এর কাছাকাছি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (কন্ট্রোল রুম) ডা. আয়েশা আক্তার বুধবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে তার পরিবারের দায়িত্ব নেয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও শোক প্রকাশ করেছেন।
মরহুমের স্ত্রী একজন চিকিৎসক। তার নাম ডা. চৌধুরী রিফাত জামান। তিনি একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ফিজিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।
তিনি দুটি ছেলে সন্তান রেখে গেছেন। প্রথম সন্তানের বয়স ১২ বছর এবং দ্বিতীয় সন্তানের বয়স ৭ বছর।
ডা. মঈন উদ্দীন ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের নাদামপুর গ্রামের সন্তান। গরিব রোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দিতেন বলে এলাকায় তিনি গরিবের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ছাতকের গ্রামে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালের উপপরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবিএম বেলায়েত হোসেন নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে ডা. মঈন উদ্দীন আমাদের এখানে এসেছিলেন। গত তিন দিন তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল।
‘রেসপিরেটরি ফেইলিওরের’ কারণে আজ তার মৃত্যু হয়। ওসমানী মেডিকেল কলেজের ওই চিকিৎসকের নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হয় ৫ এপ্রিল।
এরপর থেকে তিনি সিলেট শহরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় নিজের বাসায় আইসোলেশনে ছিলেন।
জানা গেছে, শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় ৭ এপ্রিল রাতে তাকে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিলেটের এ হাসপাতালেই কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে।
সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তার ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন পড়ে।
পরদিন বিকালে অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। ওসমানী মেডিকেলের ওই চিকিৎসকই সিলেটে শনাক্ত হওয়া প্রথম কোভিড-১৯ রোগী।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে তিনি সংক্রমিত হন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।
বুধবার করোনাসংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে তিনি বলেন, ‘রোগীকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে তিনি করোনায় সংক্রমিত হন।’
শ্বাসকষ্ট নিয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। অধ্যাপক আজাদ বলেন, তার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
তিনি হাসপাতালে গিয়ে মৃতদেহ দেখেন এবং মরহুমের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। সবার পক্ষ থেকে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।◉








