জলবায়ু সংকটে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোয় দুর্ভিক্ষ বাড়ছে: অক্সফাম
জলবায়ু সংকটে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোয় চরম ক্ষুধা বা দুর্ভিক্ষের বিস্তার ঘটছে। দাতব্য সংস্থা অক্সফাম এক প্রতিবেদনে বলেছে, বর্তমানে জলবায়ু সংকটের ফলে ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ অনাহারের সম্মুখীন হচ্ছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
দুর্ভিক্ষ জলবায়ু সংকটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। বিশ্বের অনেক অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি উন্নয়ন দাতব্য সংস্থা অক্সফাম ঝুঁকির শীর্ষে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এমন ১০টি দেশে জলবায়ু সংকটের কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে। এতে দেখা গিয়েছে, এসব অঞ্চলের মানুষ খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং তাদের চরম ক্ষুধার হার গত ছয় বছরে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত অক্সফামের প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষণা চালানো দেশগুলোর মধ্যে ৪ কোটি ৮০ লাখ মানুষ বর্তমানে তীব্র ক্ষুধায় ভুগছে, যা ২০১৬ সালে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ছিল। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অনাহারের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। অক্সফামের প্রতিবেদনের আওতায় থাকা ১০টি দেশ সোমালিয়া, হাইতি, জিবুতি, কেনিয়া, নাইজার, আফগানিস্তান, গুয়াতেমালা, মাদাগাস্কার, বুরকিনা ফাসো ও জিম্বাবুয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সংকট নিরসনে জাতিসংঘের কাছে সবচেয়ে বেশি আবেদন করেছে।
মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর বেশির ভাগই আফ্রিকার। এর মধ্যে সোমালিয়া ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ খরার সম্মুখীন হচ্ছে এবং ১০ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। কেনিয়ায় ২৫ লাখ গবাদিপশু মারা গিয়েছে এবং ২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ অনাহারে ভুগছে। চরম আবহাওয়ার কারণে নাইজারের উৎপাদন ৪০ শতাংশ কমে গিয়েছে, যা ২০ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে তীব্র অনাহারে ফেলেছে। বুরকিনা ফাসোয় ফসল ও চারণভূমির মরুকরণের ফলে ৩০ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষের শিকার হয়েছে।
অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক গ্যাব্রিয়েলা বুচার জানান, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর টিকটিক করা টাইমবোমা নয়, এটি আমাদের চোখের সামনে স্বরূপে হাজির। এতে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চরম প্রতিকূল বিপর্যয়, যেমন—খরা, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা দেখা দিয়েছে। গত ৫০ বছরে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিমাণ পাঁচ গুণ বেড়েছে।
বৈশ্বিক উষ্ণতা যখন বাড়ছে তখন ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পরে জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানিগুলো বড় অংকের মুনাফা ঘরে তুলছে। অক্সফামের দাবি, জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ১৮ দিনের মুনাফা দিয়েই জাতিসংঘের ৪ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তার দাবি পূরণ সম্ভব।
নভেম্বরে মিসরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের কপ২৭ জলবায়ু সম্মেলনে আসা দেশগুলোকে গ্রিনহাউজ গ্যাস কমানোর জন্য কার্যকরী কঠোর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হবে এবং ধনী দেশগুলোকে জলবায়ু সংকটের প্রভাবগুলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে দরিদ্র দেশগুলোকে অর্থ দিতে বলা হবে। ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় আগামী সম্মেলনের সম্ভাব্য ফলাফল হতাশাজনকই বলা হয়েছে। এদিকে গত নভেম্বরে গ্লাসগোয় কপ২৬ সম্মেলনে সব দেশ প্রাক-শিল্প স্তরের ওপরে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের মাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে সম্মত হয়েছিল।








