জার্মান ও ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব ইরানের
তেহরানে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত সাইমন শেরক্লিফ ও জার্মানির রাষ্ট্রদূত হান্স-উডো মুজেলকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরানে চলমান বিক্ষোভ ইস্যুতে গত শনিবার শেরক্লিফকে ও গত শুক্রবার মুজেলকে তলব করে ইরান। এ নিয়ে গত তিন মাসের কম সময়ের মধ্যে ১৫ বার বিদেশি রাষ্ট্রদূত তলব করল দেশটি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টির কারণে দেশটিতে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূত তলব করে কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইরান।
কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনীর (২২) মৃত্যুকে ঘিরে ইরানে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তেহরানে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতকে পাঁচবার তলব করা হয়েছে। তাকে তলব করে সন্ত্রাস ও অস্থিরতায় যুক্তরাজ্যের সমর্থনের প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান সরকার। ইরানের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা জারিরও প্রতিবাদ জানানো হয়।
এ ছাড়া সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত চারবার জার্মান রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে তেহরান। জার্মান রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ইরানের বিষয়ে জার্মানির অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপের ব্যাপারে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে তেহরান।
এদিকে গত শনিবার ইরানের ওপর অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞা জারির কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি ‘ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং সহিংসতা ও ঘৃণাকে উসকে দেয়ার’ অভিযোগ এনেছেন ক্যানবেরার বিরুদ্ধে।
‘সঠিক নিয়মে’ হিজাব না পরার অভিযোগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানে মাহসা আমিনীকে গ্রেপ্তার করে দেশটির ‘নৈতিকতা পুলিশ’। ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশি হেফাজতে মাহসা আমিনীর মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের পর সম্প্রতি নৈতিকতা পুলিশ বিলুপ্তির ঘোষণা দেয়া হয়। ইরান ইতোমধ্যে বিক্ষোভের ঘটনায় এক তরুণের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।








