টিউলিপ তৃতীয়বারের মতো ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত
যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো জয় পেয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক। টিউলিপ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে।
লন্ডনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নে লেবার দলের প্রার্থী ৩৭ বছর বয়সী টিউলিপ পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের জনি লাক ভোট পেয়েছেন ১৩ হাজার ৮৯২। এবার ১৪ হাজার ১৮৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হলেন তিনি।
একই আসন থেকে ২০১০ সালে টিউলিপ প্রথম কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে তিনি তার নিকততম প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে ১ হাজার ১৩৮ ভোট বেশি পেয়ে হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন থেকে লেবার পার্টির হয়ে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। সেবার তিনি মোট ২৩ হাজার ৯৭৭ ভোট পেয়ে ব্রিটিশ সংসদ সদস্য হিসেবে লেবার পার্টির ছায়া মন্ত্রিসভায় সংস্কৃতি, মিডিয়া ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী মনোনীত হন এবং পাশাপাশি ওয়েস্টমিনিস্টারে ১০ ভালো বক্তার তালিকায় প্রথম কোনো বাঙালি এমপি হিসেবে জায়গা করে নেন।
এরপর ২০১৭ সালের নির্বাচনে আবারও ৩৪ হাজার ৪৬৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে চাইল্ড কেয়ার এবং আর্লি এডুকেশন অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ (এপিপিজি) নিযুক্ত করা হয়। সেবার জয়ের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৫৬০।
প্রতি পাঁচ বছর পর সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ব্রেক্সিট নিয়ে জটিলতার কারণে যুক্তরাজ্যে গত পাঁচ বছরেরও কম সময়ে তিনটি নির্বাচন হলো। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনের মাধ্যমে বহুল আলোচিত ব্রেক্সিটের ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
গতকাল ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের মোট ৬৫০টি নির্বাচনী কেন্দ্রে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এখন চলছে ভোট গণনা; শুক্রবার দুপুরের মধ্যে বেশিরভাগ আসনের ফল ঘোষণা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগেই বুথ ফেরত জরিপে মিলেছে বরিস জনসনের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টির জয়ের আভাস।
এ নির্বাচনের অধীনে মোট ৬৫০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচন করা হবে। এ ভোটে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কনজারভেটিভ দল সরকার গঠন করলে ব্রেক্সিট সম্পন্ন হবে আর লেবার দল ক্ষমতায় গেলে ব্রেক্সিট ইস্যুতে দ্বিতীয় গণভোট হতে পারে।








