৫৩ রানে গুটিয়ে ২২০ রানে হারল বাংলাদেশ
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টেস্টে সিরিজেও তেমন কিছুর আশা করেছিল বাংলাদেশ। ডারবান টেস্টের চতুর্থ দিন শেষ করার আগে লড়াইয়ে ফেরে সেই স্বপ্নটা আরেকটু উজ্জ্বল করে তুলেছিল টাইগাররা।
কিন্তু কে জানতো, ইতিহাস গড়তে নেমে উল্টো লজ্জায় ডুবতে হবে সফরকারীদের! প্রোটিয়াদের দেওয়া ২৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৩ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। যা নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর। এর আগেরটি ২০১৮ সালে, অ্যান্টিগায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৩ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ।
সেই সঙ্গে কিংসমিডে আরেকটি লজ্জার রেকর্ডও নিজেদের করে নিয়েছে মুমিনুল হকের দল। এই মাঠে টেস্টে আগের সর্বনিম্ন স্কোরটি ছিল ভারতের। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ১৯৯৬ মাত্র ৬৬ রানে অলআউট হয়েছিল ভারত। প্রায় ২৫ বছর পর টিম ইন্ডিয়াকে সেই রেকর্ড থেকে মুক্তি দিল বাংলাদেশ।
এতদিন জানা ছিল, বাউন্সি উইকেটে টাইগারদের ব্যাটারদের দুর্বলতা আছে। প্রতিপক্ষের পেস আক্রমণের সামনে নিজেদের মেলে ধরতে পারেন না তারা। কিন্তু ডারবানে প্রোটিয়া স্পিনারদের ঘূর্ণিতে চূর্ণ বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে সাইমন হার্মারে চুরমার হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে কেশব মহারাজের শাসন।
একাই ৭ উইকেট নিয়ে দ. আফ্রিকাকে ২২০ রানের জয় এনে দিলেন প্রোটিয়া স্পিনার। পঞ্চম ও শেষদিনে তার শিকার ৫ উইকেট। তার সঙ্গে যোগ দিলেন হার্মার। নিলেন ৩ উইকেট। এই দুই স্পিনার মিলে আগেরদিনের শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন ফিকে করে দিয়েছিলেন সফরকারীদের।
তারপরও আশায় বুক বেঁধেছিল বাংলাদেশ। যেহেতু ব্যাটিয়ে আছেন মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হাসান শান্ত। ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশ ১১ রানে দিন শুরু করেছিলেন। জয়ের জন্য তাদের শেষদিনে দরকার ছিল ২৬৩ রান। কিন্তু কঠিন পরীক্ষা দিতে নামা টাইগাররা যেন ভুলে গেল ব্যাটিং করাটায়। প্রথম সেশন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে প্যাকেট হয়ে গেল বাংলাদেশ।
ফের ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে িমৃত্যুর মিছিলে সামিল হলেন মুশফিক, লিটন দাস, ইয়াসির আলী রাব্বি, মেহেদি হাসান মিরাজরা। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশি ব্যাটারদের স্কোর— ৪, ০, ২৬, ২, ০, ২, ৫, ০, ১৪, ০, ০। দুই অঙ্কের ঘরে পা রাখতে পেরেছেন কেবল শান্ত ও তাসকিন আহমেদ। বাকিরা যেন মোবাইল নম্বার!
প্রথম ইনিংসে ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়ের সেঞ্চুরিতে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ, চতুর্থ ইনিংসে তার ছিঁটেফোঁটাও দেখাতে পারল না। অথচ ২০৪ রানে প্রোটিয়াদের দ্বিতীয় ইনিংস থামিয়ে দিয়েছিলেন মিরাজ-এবাদতরা। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় জুটল আরেকটি লজ্জাজনক হার।
দ. আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে করে ৩৬৭ রান। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে থামে ২৯৮ রানে। ডারবান টেস্টের নায়ক মহারাজ হয়েছেন ম্যাচ সেরাও।








