৪৩ বছরের সর্বোচ্চ উচ্চতায় জাপানের আমদানি ব্যয়
কয়েক মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার। ডলারের বিপরীতে নিম্নমুখী রয়েছে ইয়েনের দাম। সুতরাং আমদানিতে আরো বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে জাপানকে। সব মিলিয়ে এপ্রিলে মাসভিত্তিক হিসাবে সর্বকালের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে দেশটির আমদানি ব্যয়। যদিও সেই তুলনায় বাড়েনি রফতানি। এ নিয়ে টানা নবম মাসের মতো বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির বাণিজ্য ঘাটতি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। খবর কিয়োদো নিউজ।
গতকাল প্রকাশিত অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, গত মাসে ৮ লাখ ৯২ হাজার কোটি ইয়েনের পণ্য আমদানি করেছে জাপান। অর্থের হিসাবে আমদানির এ পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। মাসভিত্তিক এ আমদানি ব্যয় ১৯৭৯ সালে রেকর্ড শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ।
এদিকে আমদানির তুলনায় রফতানি দুর্বল হওয়ায় জাপানের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে গেছে। এপ্রিলে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি ৮৩ হাজার ৯২০ কোটি ইয়েনে (৬৬০ কোটি ডলার) পৌঁছেছে। এ নিয়ে টানা নবম মাসের মতো দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
কভিড-১৯ মহামারীর বিপর্যয় কাটিয়ে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সময়ে জ্বালানি পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। এর মধ্যে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতি প্রাকৃতিক সম্পদ-অপ্রতুল জাপানের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হয়েছে। পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে ইয়েনের অবমূল্যায়ন আমদানি ব্যয়কে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এপ্রিলে ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতি ডলারের বিপরীতে জ্বাপানি মুদ্রার দাম ১৩১ ইয়েনে পৌঁছেছিল।
এছাড়া এ সময়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যয় ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ইয়েনে পৌঁছেছে। এ নিয়ে টানা ১৩তম মাসের মতো এ ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এলএনজি ও কয়লা আমদানি ব্যয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যথাক্রমে ১৫১ দশমিক ৬ শতাংশ ও ১৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এ নিয়ে মূল্যের হিসাবে সামগ্রিক আমদানি ব্যয় টানা দ্বিতীয় মাসের মতো রেকর্ড ভেঙেছে।
গত মাসে আমদানি সম্প্রসারণের গতি টানা ১৪তম মাসের মতো বর্ধিত রফতানিকে ছাড়িয়ে গেছে। এ সময়ে ৮ লাখ ১০ হাজার কোটি ইয়েনের পণ্য আমদানি করেছে দেশটি। এ রফতানি এক বছর আগের তুলনায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। এক্ষেত্রে লোহার চালান ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ এবং গাড়ি রফতানি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। দুর্বল ইয়েন সাধারণত রফতানিকারকদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দেয়। কারণ এমন পরিস্থিতিতে রফতানি আয় বেড়ে যায়।
দাইওয়া ইনস্টিটিউট অব রিসার্চের অর্থনীতিবিদ কাজুমা কিশিকাওয়া বলেন, চীনে কভিডজনিত লকডাউনের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়। পাশাপাশি প্যালাডিয়ামসহ কিছু বিরল উপাদানের সংকট জাপানি নির্মাতাদের পণ্য উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। এ কারণে জাপানের রফতানি প্রবৃদ্ধি মন্থর থেকে গেছে।
জাপানের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার চীনের সঙ্গে রফতানি ও আমদানি উভয়ই সংকুচিত হয়েছে। চীনা সরকারের জিরো কভিড নীতি এবং সাংহাইয়ে লকডাউন এক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে। গত মাসে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে জাপানি পণ্যের রফতানি ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। এ হার ২০২০ সালের মার্চের পর সবচেয়ে বড় পতন। অন্যদিকে চীন থেকে আমদানি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। এটি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের পর সবচেয়ে বড় পতন। এ নিয়ে ১৫ মাস পর প্রথমবারের মতো দেশটিতে চীনা পণ্যের আমদানি সংকুচিত হলো।
এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে জাপানের রফতানি ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এক্ষেত্রে গাড়ি রফতানি অবদান রেখেছে। অন্যদিকে দেশটি থেকে আমদানি ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এক্ষেত্রে এলএনজির মতো জ্বালানি পণ্য আমদানি বাড়াতে সহায়তা করেছে। এ সময়ে রাশিয়ায় জাপানি পণ্যের রফতানি ৬৯ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। ইউক্রেনে আগ্রাসনের ঘটনায় মস্কোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এ রফতানি কমিয়ে দিয়েছে। যদিও দেশটি থেকে আমদানি ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। দেশটি থেকে পরিমাণের হিসাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও কয়লা আমদানি কমলেও জ্বালানি পণ্যের উচ্চ দাম আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।








