২৫০ বছরে পদার্পণ করল ইউএস আর্মি

শাহ্ জে. চৌধুরী
(একজন সৈনিকের সন্তানের শ্রদ্ধাঞ্জলি)
আজ ২৫০ বছরে পড়ল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও সম্মানিত প্রতিরক্ষা বাহিনী—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। এই আড়াই শতাব্দীর দীর্ঘ যাত্রা কেবল যুদ্ধ ও বিজয়ের ইতিহাস নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয় গঠনের অংশ। ১৭৭৫ সালে যখন এই বাহিনী জন্ম নেয়, তখন একটি নতুন স্বাধীন দেশের স্বপ্ন ছিল চোখে। আজ, সেই স্বপ্ন বাস্তবতা আর তার অন্যতম রক্ষক হচ্ছে এই মার্কিন আর্মি। সাহস, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, এবং সেবার যে আদর্শে এই বাহিনী এগিয়েছে। তা শুধু আমেরিকার মাটিতেই নয়, সারা বিশ্বে প্রতিফলিত হয়েছে শান্তি ও মানবিকতার বার্তা হয়ে।
আজকের এই দিনটি কেবল একটি জন্মদিন নয়, এটি এক শ্রদ্ধাবনত প্রতিজ্ঞা, যেখানে আমরা মাথা নত করে স্মরণ করি তাঁদের, যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন স্বাধীনতা ও সুরক্ষার জন্য।
একটি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাঞ্জলি
আমার এই শ্রদ্ধা একটু ভিন্ন, একটু বেশি হৃদয়ের কাছাকাছি। কারণ, আমি নিজে একজন সৈনিকের সন্তান।
আমার বাবা ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন গর্বিত সদস্য। তিনি ছিলেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণকারী একজন বীর যোদ্ধা, যিনি সেক্টর ২-এ প্রশিক্ষণ নিয়ে জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য লড়াই করেছিলেন।
স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতেই থেকে গড়েছিলেন একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, আত্মনিবেদিত জীবনের উদাহরণ।
তার জীবন থেকে আমি শিখেছি, সেনা হওয়া মানে শুধু অস্ত্রধারণ নয়, বরং একটি আদর্শ ধারণ করা। সেনা মানে দায়িত্ব, নীরব আত্মত্যাগ, সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে দেশ ও পরিবারের প্রতি নিষ্ঠা রেখে চলা।
আজ যখন আমি ইউ.এস. আর্মির ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপন দেখি, আমার মনে পড়ে যায় বাবার পরিশ্রমে গড়া সোজা পিঠ, কমান্ড কণ্ঠ, আর দেশের পতাকা দেখে জ্বলজ্বলে হয়ে ওঠা চোখ।
সম্মান ও কৃতজ্ঞতা
এই বিশেষ দিনে, আমি আমার লেখার মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাতে চাই প্রত্যেক সৈনিককে—যিনি অতীতে লড়েছেন, এখন দায়িত্ব পালন করছেন, কিংবা আগামীর শপথ নিচ্ছেন। তোমাদের জন্যই আমরা আজ নিরাপদ। তোমাদের জন্যই আজ আমরা আশাবাদী।
২৫০ বছরের গৌরবময় এই যাত্রা হোক শান্তির প্রতীক, হোক ভবিষ্যতের জন্য এক উদ্দীপনাময় অনুপ্রেরণা।








