বিশ্বে মোট করোনায় আক্রান্তের ৩ ভাগের ১ ভাগ যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণহানি ৬১ হাজার প্রায়। এ সংখ্যা ভিয়েতনাম যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্যদের চেয়েও বেশি।
ভিয়েতনাম যুদ্ধে ৫৮ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যাও বিপুল। বিশ্বে মোট আক্রান্তের ৩ ভাগের ১ ভাগই এ দেশে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর সেখানে শিগগিরই প্রতিদিন ৫০ লাখ মানুষকে পরীক্ষার আওতায় আনা হবে।
করোনায় বিপর্যস্ত দক্ষিণ আমেরিকার তিন দেশ ব্রাজিল, ইকুয়েডর ও পেরু।
ইকুয়েডরে হাসপাতাল জুড়ে করোনা রোগীদের হাহাকার চলছে। চিকিৎসা না পেয়ে অনেকেই সেখানে মারা যাচ্ছেন। দেশটির চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালের মর্গ উপচে লাশের স্তূপ জমেছে বাথরুমে।
মৃত্যুতে চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে ব্রাজিল। পেরুতে একটি কারাগারে করোনা চিকিৎসা সেবার দাবিতে বিক্ষোভরত বন্দিদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে ভারতে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে এশিয়ায় দেশটির অবস্থান তৃতীয়।
নিউ ইয়র্ক সময় বুধবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ড-ও-মিটারসের তথ্যানুযায়ী বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩১ লক্ষ ৯৫ হাজার ৩১৭। মারা গেছেন ২ লক্ষ ২৬ হাজার ৪১১ জন। অবস্থা আশঙ্কাজনক ৬০ হাজার ২৩৯ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৭৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৬ হাজার ৫৬২ জন। মারা গেছেন ৬ হাজার ৩৬৫ জন।
করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে ইউরোপ ও আমেরিকায়। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লক্ষ ৫২ হাজার ২০৩ জন। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ২ হাজার ৪৭০ জন, আগের ২৪ ঘণ্টায় যা ছিল ১ হাজার ৩৮৪ জন। আক্রান্ত ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৭৬৫, মৃত্যু হয়েছে ৬০ হাজার ৭৫৭ জনের।
১৯৫৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ভিয়েতনাম যুদ্ধে ৫৮ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হন। এবার করোনা মহামারীতে তার চেয়েও বেশি মানুষের মৃত্যু হলো যুক্তরাষ্ট্রে। ওয়াশিংটন ডিসির ভিয়েতনাম ভেটেরান্স স্মৃতিসৌধে ৫৮ হাজারেরও বেশি নিহত সৈন্যের নাম লিপিবদ্ধ আছে।
ভিয়েতনাম যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ১ লাখ মানুষে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ হারে সেনা নিহত হয়েছিল। আর করোনাভাইরাসে প্রতি ১ লাখ মানুষে ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ হারে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। ৯০ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যু ঘটে। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলোতেও প্রাণঘাতী এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পর করোনায় মৃত্যুতে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই ইউরোপের। ইটালিতে ২৭ হাজার ৬৮২ জন মারা গেছেন, আক্রান্ত ২ লাখ ৩ হাজার ৫৯১ জন। স্পেনে আক্রান্ত ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৯৯, মৃত্যু হয়েছে ২৪ হাজার ২৭৫ জনের। ফ্রান্সে আক্রান্ত ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫১৮, মৃত্যু হয়েছে ২৪ হাজার ৮৭ জনের। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ১ লাখ ৬৫ হাজার ২২১, মৃত্যু হয়েছে ২৬ হাজার ৯৭ জনের।◉
বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্স








