পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ পুতিনের
নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়ার বিজয় দিবসে সশস্ত্র বাহিনী তথা দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনারা ‘মাতৃভূমিকে রক্ষা করছে’। তিনি আরো বলেন, ইউক্রেনে আক্রমণ প্রয়োজনীয় ছিল। পশ্চিমাদের উসকানির কারণেই তা ঘটেছে।
মস্কোর রেড স্কয়ারের ঐতিহ্যবাহী এই কুচকাওয়াজে দেওয়া ভাষণে পুতিন ইউক্রেন আক্রমণের পক্ষে তার এত দিন দিয়ে আসা যুক্তিগুলোর পুনরাবৃত্তি করেন।
কুচকাওয়াজের ভাষণে পুতিন ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ সম্পর্কে কোনো বড় ঘোষণা দেওয়া, বিজয় ঘোষণা অথবা নিদেনপক্ষে হামলা জোরদার করার কোনো আভাস-ইঙ্গিত দেবেন কি না, তা নিয়ে অনেক গুঞ্জন ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি এসবের কোনোটাই করেননি।
গতকালের কুচকাওয়াজ ও প্রদর্শনীতে প্রচুর সামরিক অস্ত্রসরঞ্জাম ছিল। তবে গত বছরের বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজের তুলনায় সেনা বা প্রদর্শনীর অস্ত্র উভয়ই ছিল কম। এবার রাশিয়ার ২৮টি শহরে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৬৫ হাজার লোক, ২৪০০ সামরিক অস্ত্রসরঞ্জাম এবং ৪০০টির বেশি যুদ্ধবিমান অংশ নেয়।
পুতিন যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো ও কিয়েভ সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, তাদের কর্মকাণ্ড রাশিয়ার নিরাপত্তাকেই বিপন্ন করেছে। ভাষণে তিনি আগেও বারবার বলা ইউক্রেনের কথিত ‘নব্য-নাৎসিদের’ কথা আবার উল্লেখ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট পুতিন রাশিয়ার সামরিক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি হিসাবে বলা হয়েছিল, ১৩৫১ জন রুশ সেনা নিহত হয়েছেন। কিন্তু তা ছয় সপ্তাহ আগের কথা। তার পর থেকে কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই। এ নিয়ে পুতিনও কিছু বললেন না।
পুতিনের বক্তৃতার পর, হাজার হাজার রুশ সেনা রেড স্কয়ার জুড়ে কুচকাওয়াজ করেন। বিমানবাহিনীর পরিকল্পিত সামরিক ‘ফ্লাই-ওভার’ বাতিল করা হয়। সরকারিভাবে বলা হয়েছে, খারাপ আবহাওয়াই এর কারণ।
মস্কোতে অনেকেই মনে করেন, ইউক্রেন সরকার উৎখাতের প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিকল্প পরিকল্পনা ছিল ঐতিহাসিক ৯ মের মধ্যে যুদ্ধে বিজয় নিশ্চিত করা। তা হয়নি। প্রেসিডেন্ট পুতিন এখন কী করবেন, সেটা অনেকের কাছেই লাখ টাকার প্রশ্ন।
গতকালের বক্তৃতায় তার আভাস ছিল না বললেই চলে। আবার বৈরিতা শেষ হওয়ারও কোনো সংকেত ছিল না। তার অর্থ, আপাতত যুদ্ধ চলবে।
বিবিসি








