দুই প্রবাসীর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর প্রায় ফাঁকা
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা শহর অনেকটা ফাঁকা হয়ে গেছে। আজ সোমবার সকাল থেকে উপজেলা শহরের হাট-বাজারে তেমন লোকজন দেখা যায় নি।
অফিস-আদালতেও লোকজনের উপস্থিতি কিছুটা কম। দুই প্রবাসীর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যান্য দিন উপজেলা শহর সকাল আটটা থেকে জমে উঠলেও আজ তেমনটা দেখা যায় নি।
উপজেলা শহরে লোকজন ও যানবাহন চলাচল অনেক কম। মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে তেমন বের হচ্ছেন না।
যারা ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন, তারা মাস্ক পরে বের হচ্ছেন। আবার দ্রুত কাজ সেরে বাড়ি ফিরছেন।
১১ মার্চ দুই প্রবাসী বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তারা ওই বাড়িতে ১১ ও ১২ মার্চ অবস্থান করেন। ১৩ মার্চ তারা গাইবান্ধা শহরে নিজেদের বাড়িতে চলে যান।
বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে এলে তাদের দুজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। তাদের নমুনা ঢাকায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়।
গতকাল রোববার আইইডিসিআর থেকে জানানো হয়, ওই দুজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।
১৩ মার্চের ওই অনুষ্ঠানে ৫ শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। তাদের বেশির ভাগই ২১ মার্চ গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের উপনির্বাচনে ভোট দেন।
এ ছাড়া তারা হাট-বাজারসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। এই অবস্থায় ভাইরাসটি দ্রুত সংক্রামিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ নিয়ে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি গতকাল এক জরুরি সভা করে।
সভায় সাদুল্যাপুর উপজেলা লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নবীনেওয়াজ জানান, উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য গাইবান্ধা জেলা করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কমিটির সভাপতি গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
আজ দুপুরে গাইবান্ধা জেলা করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কমিটির সদস্য সচিব এবং গাইবান্ধার সিভিল সার্জন এস এম আবু হানিফ বলেন, সাদুল্যাপুরে পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।
ওই বিয়েবাড়ির সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন, তাদের চিহ্নিত করে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। বাকিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দুই প্রবাসী হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন।
ঢাকা থেকে একটি দল গাইবান্ধায় আসবে। লকডাউন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লকডাউন করার মতো কোনও পরিস্থিতি সাদুল্যাপুরে হয় নি।♦








