Our Concern
Ruposhi Bangla
Hindusthan Surkhiyan
Radio Bangla FM
Third Eye Production
Anuswar Publication
Ruposhi Bangla Entertainment Limited
Shah Foundation
Street Children Foundation
June 14, 2026
হেডলাইন
Homeপ্রধান সংবাদজাতীয় চার নেতার হত্যাকারীদের একজন খুনি মোসলেহ উদ্দিন

জাতীয় চার নেতার হত্যাকারীদের একজন খুনি মোসলেহ উদ্দিন

জাতীয় চার নেতার হত্যাকারীদের একজন খুনি মোসলেহ উদ্দিন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বুকে গুলিবর্ষণকারী পলাতক খুনি রিসালদার (বরখাস্ত) মোসলেহ উদ্দিন ভারতে আটক হওয়ার পর তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতের গণমাধ্যমগুলো।

খুনি মুসলেহ উদ্দিনকে আটকের ঘটনা তুলে ধরে ভারতের এনডিটিভি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এছাড়া এ বিষয়ে সরব হয়ে ওঠেছে দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম।

মোসলেহ উদ্দিনের আটক ও বাংলাদেশে হস্তান্তর সম্পর্কে ধোঁয়াশা পুরোপুরি না কাটলেও এরই মধ্যে আলোচনায় আসতে শুরু করেছে কলঙ্কময় সেই ইতিহাসের নানা অধ্যায়। তারই ধারাবাহিকতায় সামনে আসে বর্বর খুনি রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন সম্পর্কিত ইতিহাসের আরেক নির্মম সত্য।

ইতিহাসের তথ্য বলছে— শুধু বঙ্গবন্ধু নয়, জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া খুনিদেরও একজন এই ঘাতক মোসলেহ উদ্দিন।

বঙ্গবন্ধুকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যদের সঙ্গে নির্মমভাবে হত্যা করার পর ঘাতকরা এদেশের বুক থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব প্রদানকারী ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব বিনাশের কাজে হাত দেয়। আর সেই লক্ষ্যে ঘাতক চক্র তাদের পরবর্তী টার্গেট নির্ধারণ করে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য রাজনৈতিক সহচর ও জাতীয় চার নেতা— বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও দেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

যে ঘাতক চক্রের হাতে প্রত্যক্ষভাবে জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়িত হয় তাদেরও একজন এই বর্বর ঘাতক-খুনি রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন।

ধারণা করা হয় জাতির পিতার বুকে গুলি চালিয়েই খুনি চক্রের আস্থাভাজন হাতিয়ারে পরিণত হয় এই রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন।

সেই ইতিহাসের তথ্য তুলে ধরতে, ২০১০ সালে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া ‘জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড’ ঘটনার বর্ণনা সম্পর্কিত এক সাক্ষাৎকারে যা বলেছিলেন তৎকালীন জেলার আমিনুর রহমান। তার কিছু অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো —

‘১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে একটি পিকআপ এসে থামে।

তখন রাত আনুমানিক দেড়টা থেকে দুইটা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় সে গাড়িতে কয়েকজন সেনা সদস্য ছিল।

ঢাকা তখন এখন অস্থিরতার নগরী। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে অভ্যুত্থান এবং পাল্টা অভ্যুত্থান নিয়ে নানা রকম কথা শোনা যাচ্ছে তখন।

সে সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জেলার হিসেবে কর্মরত ছিলেন আমিনুর রহমান।

রাত দেড়টার দিকে কারা মহাপরিদর্শক টেলিফোন করে জেলার আমিনুর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে আসতে বলেন।

দ্রুত কারাগারের মূল ফটকে গিয়ে জেলার রহমান দেখলেন, একটি পিকআপে কয়েকজন সেনা সদস্য সশস্ত্র অবস্থায় আছে।

মূল ফটকের সামনে সেনা সদস্যরা কারা মহাপরিদর্শককে একটি কাগজ দিলেন।

সেখানে কী লেখা ছিল সেটি অবশ্য জানতে পারেন নি জনাব রহমান।

মূল ফটক দিয়ে ঢুকে বাম দিকেই ছিল জেলার আমিনুর রহমানের কক্ষ। তখন সেখানকার টেলিফোনটি বেজে ওঠে।

জেলার রহমান যখন টেলিফোনের রিসিভারটি তুললেন, তখন অপর প্রান্ত থেকে বলা হলো প্রেসিডেন্ট কথা বলবেন।

আমিনুর রহমানের ভাষায়, ‘টেলিফোনে বলা হলো প্রেসিডেন্ট কথা বলবে আইজি সাহেবের সাথে। তখন আমি দৌড়ে গিয়ে আইজি সাহেবকে খবর দিলাম। কথা শেষে আইজি সাহেব বললেন যে প্রেসিডেন্ট সাহেব ফোনে বলছে আর্মি অফিসাররা যা চায়, সেটা তোমরা কর।’

মূল ফটকের সামনে কথাবার্তার চলতে থাকে। এক সময় রাত তিনটা বেজে যায়।

আমিনুর রহমান বলেন, এক পর্যায়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগের চার নেতাকে একত্রিত করার আদেশ আসে।

কারা মহাপরিদর্শক একটি কাগজে চার ব্যক্তির নাম লিখে জেলার আমিনুর রহমানকে দিলেন।

সে চারজন হলেন – সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামান।

আমিনুর রহমানের বর্ণনা অনুযায়ী সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং তাজউদ্দীন আহমদ কারাগারের একটি কক্ষে ছিলেন।

ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে অপর কক্ষ থেকে এখানে নিয়ে আসা হয়।

সেখানে আসার আগে ক্যাপ্টেন মনসুর আলী কাপড় পাল্টে নিলেন।

জেলার রহমানের বর্ণনায়, ‘তাজউদ্দীন সাহেব তখন কোরআন শরীফ পড়ছিলেন। ওনারা কেউ আমাদের জিজ্ঞেস করলেন না আমাদের কোথায় নেও ( নেয়া হচ্ছে)? সৈয়দ নজরুল ইসলাম সাহেব হাত-মুখ ধুলেন। আমি বললাম আর্মি আসছে।’

চারজনকে যখন একটি কক্ষে একত্রিত করার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগার কারণে সেনাসদস্যরা কারা কর্মকর্তাদের নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করছিল।

জেলার রহমান জানান, ‘মনসুর আলি সাহেব বসা ছিল সর্ব দক্ষিণে। যতদূর আমার মনে পড়ে। আমি মনসুর আলীর ‘ম’ কথাটা উচ্চারণ করতে পারি নাই, সঙ্গে সঙ্গে গুলি!’

কারাগারের ভেতর এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর চার নেতার পরিবার সেদিন জানতে পারেন নি।’

ঘটনার ২৯ বছর পর ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তিন আসামি রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন, দফাদার মারফত আলী শাহ ও দফাদার আবুল হাশেম মৃধাকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

খুনিরা জানত যে বঙ্গবন্ধুর রক্তের দুই তেজস্বিনী ধারা তখনও বহমান। ধূর্ত খুনির দল ঠিকই ধারণা করেছিল, সময়ে তারা সমন্বিতভাবে খরস্রোতা গঙ্গার মত ধাবিত হবে। তার প্রলয়বাণে দু কূল ছাপিয়ে ওঠা জলোচ্ছ্বাস বয়ে আনবে খুনিদের মৃত্যু পরোয়ানা। সে জলের ধারায় স্নানিত হয়ে স্বৈরশাসকের হাতে অবরুদ্ধ বাংলার স্বাধীনতা আবার উদ্ভাসিত হবে, জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার প্রাপ্ত হয়ে ইতিহাস হবে কলঙ্কমুক্ত। মূলত সে পথ চিরতরে রোধ করতেই কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠ্যে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে খুনি জিয়া-মুশতাক চক্রের অনুসারি, একদল পথভ্রষ্ট সৈনিক। যাদের একজন এই মোসলেহ উদ্দিন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যায় অভিযুক্ত কমপক্ষে এক ডজন অপরাধীকে ২০০৯ সালের দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি ঘোষণা করে বাংলাদেশ। অভিযুক্তদের মধ্যে ২০১০ সালে ৫ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। বাকি চারজন এখনও পলাতক।◉

 

Share With:
Rate This Article