জলবায়ু সংকট থেকে মনোযোগ সরানো যাবে না: হাসিনা
চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্বকে জলবায়ুু সমস্যা থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে দেয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সিভিএফের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ১৫০ কোটি মানুষ জলবায়ুু পরিবর্তনের জরুরি অবস্থার মুখে পড়েছে। চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আমরা বিশ্বকে জলবায়ুু সংকট থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিতে পারি না।
গতকাল গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সিভিএফের সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন সংগঠনটির বিদায়ী প্রেসিডেন্ট শেখ হাসিনা ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আডোর হাতে দায়িত্ব তুলে দেন।
২০২০ সালে কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো সিভিএফের দায়িত্ব গ্রহণ করে উল্লেখ করে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, স্বস্তির কথা হলো এ সময়ে আমাদের বেশির ভাগ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে আমরা সফল হয়েছি।
জলবায়ুুসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আলোচনায় সিভিএফ এখন গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জলবায়ুু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সম্মিলিত কণ্ঠস্বর হিসেবে গড়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটি। সিভিএফ সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি তার প্রমাণ। শুরু থেকে কপ২৬-এর সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের মনোযোগ ছিল। মহামারীর মধ্যেও আমরা জলবায়ু সংকটের দিকে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা তাদের এনডিসি (কার্বন নিঃসরণবিষয়ক জাতীয় নির্ধারিত অবদান) জমা দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। প্রায় ৭০টি দেশ আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে।
সিভিএফের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে জলবায়ুসংক্রান্ত পদক্ষেপে সহায়তা দিতে সিভিএফ-ভি২০ জয়েন্ট মাল্টি-ডোনার তহবিলও তৈরি করা হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় ঢাকা-গ্লাসগো ঘোষণাকে সিভিএফের মূল দাবি এবং প্রতিশ্রুতির সারসংক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেন ফোরামের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আমরা কার্বন উচ্চ-নিঃসরণকারী দেশগুলোর তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা এবং প্রতি বছর জলবায়ুু খাতে উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাড়াতে আমাদের দাবির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছি। সিভিএফের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ুু চ্যালেঞ্জকে স্থিতিস্থাপকতা এবং সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাওয়াটা হবে আমাদের প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক, এটা আমি বিশ্বাস করি।








