করোনা: দিল্লিতে শ্মশান ও কবরস্থানে সংকট
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ায় তার চড়া আঁচ লেগেছে শ্মশান ও কবরস্থানে। মধ্যপ্রদেশের ভোপালের এক ভিডিও বুধবার ওঠে আসে দীর্ঘ লাইনের সারি। একই অবস্থা দিল্লিতেও। সেখানেও দৈনিক মৃত্যু বাড়ার ফলে শ্মশান, কবরস্থানে লাইন পড়ছে বিশাল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, এই পরিমাণ মৃতদেহ প্রতিদিন এলে সুষ্ঠভাবে সৎকার সম্পন্ন করা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
দিল্লির সবচেয়ে বড় শ্মশান নিগম্বোধ ঘাট। সৎকারের জন্য গত কয়েকদিন ধরে সেখানে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। অনেক ৬-৭টা ঘণ্টা অপেক্ষা করে স্বজনদের মরদেহ দাহ করার সুযোগ পাচ্ছেন না।
বর্তমান হারে লাশ এলে কিছু দিন পরই কবর দেওয়ার জায়গা শেষ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দিল্লির এক কবরস্থান কর্তৃপক্ষ। মোহাম্মদ শামিম নামের একজন বলছেন, ‘‘আগে দিনে ১-২টা করে মরদেহ আসত। এখন দিনে ১৭-১৮টা করে আসছে। শেষ ৫ দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এখানে আর ৯০ জনকে কবর দেওয়ার মতো জায়গা পড়ে রয়েছে।’’
শুধু শেষকৃত্য নয়। মর্গেও মরদেহ রাখার জায়গা হচ্ছে না বিভিন্ন রাজ্যের হাসপাতালে। ছত্তীসগঢ়ের রায়পুরের একটি সরকারি হাসপাতালের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে নেটমাধ্যমে। সেখানে দেখা গিয়েছিল, কীভাবে প্রকাশ্যে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে মরদেহ। এ ছাড়া সংক্রমণ বৃদ্ধির জেরে হাসপাতালে শয্যা পেতে বেগ পেতে হচ্ছে আক্রান্তদের।
এ দিকে মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে রোগীর চাপ সামলাতে পাঁচতারা ও চারতারা হোটেলগুলোকে হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুম্বাই পৌর প্রশাসন। সামান্য উপসর্গের করোনা আক্রান্তদের জন্য এই হোটেলগুলোতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে। হাসপাতালে ভর্তি যে সব করোনা আক্রান্তের অক্সিজেন-সহ জরুরি সাহায্যের কোনো প্রয়োজন নেই, তাদের হোটেলে স্থানান্তরিত করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।
অন্যদিকে ভারতে করোনাভাইরাসে একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ২ লাখ ছাড়িয়ে গেল। এর আগে একদিন এত সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার রেকর্ড ছিল আমেরিকার।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বৃহস্পতিবার সকালে জানায়, ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৭৩৯ জন। এর জেরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৪০ ছাড়াল। আর প্রাণহানি হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ১২৩।❐








