করোনাভাইরাস এবার নিউইয়র্কে
করোনাভাইরাস তার সংক্রমণের থাবা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এবার। দেশটির স্বাস্থ্য দফতর নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের ৩০ বছর বয়সী এক নারীসহ যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ৬৭ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে।
ওয়াশিংটন রাজ্যে ১ জনসহ মারা গেছেন এ পর্যন্ত দুইজন।
এদিকে স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে নিউইয়র্ক রাজ্য গভর্নর এন্ড্রু ক্যুমো নিউইয়র্ক সিটির এক নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো নিউইয়র্ক জুড়ে। এ খবরে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝেও ভয় আর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
গভর্নর ক্যুমো জানিয়েছেন, ভাইরাসে আক্রান্ত নারী নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনের বাসিন্দা। অনেক আগে তিনি ইরান সফরে গিয়েছেন। কিন্তু তার দেহে কীভাবে মরণব্যাধি এই করোনাভাইরাস প্রবেশ করল তা নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ওই নারীকে ম্যানহাটনে তার নিজের অ্যাপার্টমেন্টেই রাখা হয়েছে।
নিউইয়র্ক রাজ্য গভর্নর ক্যুমোর বরাত দিয়ে প্রথমে ব্রেকিং নিউজ প্রকাশ করে নিউইয়র্ক পোস্ট। ক্যুমো তার বিবৃতিতে বলেন, ‘ত্রিশ বছর বয়সী একজন রোগী সবশেষ ইরান সফর করেছিলেন, সে সময় তিনি করোনাভাইরাস আক্রান্ত হন। বর্তমানে তিনি তার বাড়িতেই রয়েছেন।’
এদিকে, করোনাভাইরাস মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে এমন শঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছেন নিউইয়র্ক গভর্নর। তিনি বলেন, ‘অবাক হওয়ার কোনও কারণ নেই-এটি প্রত্যাশিত ছিল।’
অন্যদিকে, সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাজিও সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া নতুন এ করোনাভাইরাস এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৬০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই এশীয় রাষ্ট্র। এ দেশগুলোর আক্রান্তরা ব্যক্তিদের সিংহভাগই চীনের আশপাশের রাষ্ট্র, বিশেষ করে উহান শহরে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ছিল। সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দ্রুত। এবারে যার প্রথম অভিজ্ঞতা পেল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের সানফ্রান্সিসকোসহ কয়েকটি শহরে জারি করা হয়েছে স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউসে এক প্রেস ব্রিফিংএ দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বোচ্চ সতর্কতার কথা জানিয়ে কয়েকটি আক্রান্ত দেশে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কথা জানান।
ওয়াশিংটন রাজ্যের গভর্নর জে ইনস্লি শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ঘটনা খুবই দুঃখজনক। নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। ওই বিবৃতিতে তিনি একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে এক আমেরিকার নাগরিকের মৃত্যু হয়। করোনাভাইরাসে এ নিয়ে দেশটির মোট তিনজন নাগরিকের মৃত্যু হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েকজনের শরীরে সম্প্রতি করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। তবে ভাবনার বিষয় হলো এর মধ্যে তারা করোনাকবলিত দেশগুলোতে বেড়াতে যান নি, তারা দেশেই ছিলেন। তাহলে কীভাবে সংক্রমণ ছড়াল তা নিয়ে বেশ চিন্তিত কর্মকর্তারা। আক্রান্তদের সবাই হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানসহ আক্রান্ত দেশগুলোতে ভ্রমণে কড়াকড়ি ও সম্প্রতি সেসব দেশে ভ্রমণের ইতিহাস থাকলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আগেভাগে ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় মাপে প্রাণে রক্ষা পেয়েছি।’ প্রাণঘাতী এই ভাইরাস থেকে নাগরিকদের রক্ষা করতে তার সরকার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেবে বলেও ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ♦








