এমপি পাপুল: বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত আলোচনার শীর্ষে
বাংলাদেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যে আলোচিত চরিত্র এখন বাংলাদশের এমপি কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুল। মানব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে গত ৬ জুন রাতে গ্রেফতার হওয়ার পর কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পাপুলকে। এরপর থেকে কুয়েতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম তো বটেই, গালফ টাইমস সহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সবগুলো প্রভাবশালী মাধ্যমেই আকর্ষণীয় শিরোনাম হয়েছেন এমপি পাপুল। দেশে দুর্নীতি দমন কমিশন তার সম্পদ অর্জনের বিষয়ে খোঁজ-খবর শুরুর পর থেকে দেশের সব সংবাদ মাধ্যমে এখন গুরুত্বপূর্ণ খবর পাপুল।
পাপুল বর্তমানে কুয়েতের কারাগারে আছেন। সে দেশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা তার বিরুদ্ধে মানব পাচার ও প্রায় ৫৩ মিলিয়ন কুয়েতি দিনার (প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা) পাচারের বিষয়ে তথ্য প্রমাণ পাওয়ার পর এবং জামিনের আবেদন নাকচ হওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এমপি পাপুল কুয়েতের অপরাধ তদন্ত সংস্থার কাছে নিজের অপকর্মের কথা স্বীকার শুধু নয়, কুয়েতে তার সহযোগীদের নাম এবং ঘুষ দেওয়ার তথ্যও প্রকাশ করেছেন। স্বীকারোক্তির পর তার ব্যবাসায়িক প্রতিষ্ঠান মারাফি কুয়েতের একাউন্টে থাকা প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করার জন্যও উদ্যোগ নিয়েছে কুয়েত সরকার। এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা কুয়েতের উপ-প্রধানমন্ত্রী আনাস আল-সালেহ এমপি কাজী শহীদের গ্রেফতারকে এশীয় অভিবাসীর মাধ্যমে সবচেয়ে বড় মানব পাচারের ঘটনার প্রকাশ বলে টুইটারে বিবৃতি দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, এমপি পাপুলের পরিবার মূলত বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দেশে তার ব্যবসাও একাত্তরে মানবতা অপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর সঙ্গে। অথচ এই পাপুলই ২০১৬ সালের পর হঠাৎ ধুমকেতুর মত লক্ষ্মীপুরের রাজনীতিতে এসে বড় ধরনের চমক সৃষ্টি করেছেন এবং সরসারি টিকেটে না হলেও লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় আওয়ামীলীগের প্রত্যক্ষ সমর্থনেই ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
কুয়েতে এমপি পাপুল গ্রেফতার হওয়ার পর ‘কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল এমপি সমর্থক গোষ্ঠি’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে লক্ষ্মীপুরের কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতা পাপুলের পক্ষে সাফাই গেয়ে যাচ্ছেন। বারবার টেলিফোনে যোগাযোগ করে না পেলেও এই ফেসবুক পেজে এমপি পাপুলের স্ত্রীর একটি বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে তিনি বলেছেন, এমপি পাপুলের প্রতিষ্ঠান ‘মারাফি কুয়েতি’ কুয়েতে বেশ কয়েকাট সরকারি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত। ফলে কুয়েকটি একাধিক ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দী গ্রুপ তার প্রতি নাখোশ হন। একই সঙ্গে দেশের রাজনীতিতে তার জনকল্যাণমূলক ভূমিকায় দ্রুত জনপ্রিয়তায় একটি মহলও ব্যাপক ঈর্ষান্বিত হয়। এ কারণে কুয়েত এবং বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মহল যৌথভাবে যে ষড়যন্ত্র করছেন, তারই ফলশ্রুতিতে তাকে ঘিরে এই গ্রেফতার এবং অপবাদ চলছে।
…এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা কুয়েতের উপ-প্রধানমন্ত্রী আনাস আল-সালেহ এমপি কাজী শহীদের গ্রেফতারকে এশীয় অভিবাসীর মাধ্যমে সবচেয়ে বড় মানব পাচারের ঘটনার প্রকাশ বলে টুইটারে বিবৃতি দিয়েছেন।…
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, পাপুল, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা এবং সিলেটেও তার সাম্রাজ্য বিস্তারের পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে শুরু করেছিলেন।
১৯৮৯ সালে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের এক তরুণ পাপুল ভাগ্যান্বষণে কুয়েতে যান। সেখানে তার বড় ভাই কাজী মঞ্জুরুল আলম আগে থেকেই ছিলেন। এলকায় মঞ্জুরুল আলম যুবদলের নেতা ছিলেন বলে জানায় এলাকাবাসী। পাপুল সরাসরি রাজনীতি না করলেও ভাই এর রাজনীতিরই সহযোগী ছিলেন। তার ভাই কাজী মঞ্জুরুল কুয়েতে গিয়েও বিএনপি’র রাজনীতি ছাড়েন নি। বরং তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে তিনি কুয়েত বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ লাভ করেন। ভাইয়ের সহায়তায় পাপুল কুয়েতে একটি স্থানীয় পরিচ্ছন্নতা সেবা দেওয়া কোম্পানির সুপারভাইজার হিসেবে চাকরি পান কুয়েতে। প্রায় এক বছর চাকরির পর ১৯৯০ সালের শেষের দিকে ইরাকের কুয়েত দখলের কারণে পাপুল দেশে ফিরে আসেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কাজী শহিদ আবার কুয়েতে যান ১৯৯২ সালে।
এরপর পাপুল ধীরে ধীরে এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন আদম ব্যবসায়ী হিসেবে। নিজের এলাকা লক্ষ্মীপুর ছাড়াও শ্বশুর বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা এলাকায় তিনি জোরোসোরে আদম ব্যবসা চালিয়ে যান বছরের পর বছর ধরে।
কুয়েতের অপরাধ তদন্ত সংস্থার বরাত দিয়ে কুয়েতের স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, তিনি গত দুই দশকে প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে কুয়েতে নিয়ে গেছেন এবং তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে আড়াই থেকে তিন হাজার কুয়েতি দিনার (৬ থেকে ৭ লাখ টাকা) করে নিয়েছেন। পরে নিজের কোম্পানিতে বিনা বেতনে খাটিয়েছেনও।
একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের দিকে এমপি পাপুল কুয়েতে তার কোম্পানির অন্য ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে দ্বন্দে জড়িয়ে পড়েন। এরপরই তিনি নিজের দেশের রাজনীতিতে ঢুকে প্রভাবশালী হওয়ার কৌশল নেন। বিশেষ করে অবৈধ সম্পদ রক্ষার জন্যই তার দরকার হয় একটি কূটনৈতিক পাসপোর্টের। কারণ, এমপি পাপুল রেসিডেন্ট পারমিটধারী হিসেবে কুয়েতে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। তিনি কুয়েতের স্থায়ী নাগরিকত্ব পান নি। যে কারণে বাংলাদেশের কূটনৈতিক পাসপোর্টধারী হলে তিনি কুয়েতে ‘ডিপ্লোম্যাটিক সুবিধা’ পাবেন, এ চিন্তা থেকেই মূলত তিনি যে কোনও মূল্যে এমপি হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন।
…অনুসন্ধানে দেখা যায়, এমপি পাপুলের পরিবার মূলত বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দেশে তার ব্যবসাও একাত্তরে মানবতা অপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর সঙ্গে।…
একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০১৬ সালের আগেও কাজী শাহীদ পাপলু লক্ষ্মীপুরের রাজনীতিতে একেবারেই পরিচিত ছিলেন না। তিনি দীর্ঘদিন কুয়েত প্রবাসী ছিলেন। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে তিনি পাপুল লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আসেন। ওই সময়ে তাকে রায়পুর পৌর আওয়ামীলীগ এবং লক্ষীপুরের জেলা আওয়ামীলীগের লোকজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে দেখা যায়। ওই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি লক্ষ্মীপুর শহরে জেলা সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেই মতবিনিময় সভায় তিনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ না করাসহ মানব সেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করার ঘোষণা দেন।
এর এক বছর পর ২০১৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর দিনব্যাপী রায়পুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, সকল ইউপি সদস্য, সকল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ও সকল ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতির সাথে মতবিনিময় সভা করেন কাজী শহীদ পাপুল। সেই সভায় তিনি প্রথমবারের মত আগামী জাতীয় নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশা করে এলাকার উন্নয়নের জন্য সমর্থন চান। এ জন্য আগামীতে সংসদ নির্বাচনে নৌকার মনোনায় পেয়ে নির্বাচিত হলে রায়পুর উন্নয়নের কাজ নিবেদিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এই মতবিনিময় সভায় রায়পুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফ মাষ্টারেরর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পাপলুর স্ত্রী সেলিনা ইসলাম, কন্যা মারওয়াহ ইসলামসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের অধিকাংশ নেতারা।
এরপর ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চান পাপুল। পরে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় তিনি নিজের পেশা ‘ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বা আন্তর্জাতিক ব্যবসা’ উল্লেখ করেন। ওই আসনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন পাওয়া জাতীয় পার্টির তৎকালীন এমপি মোহম্মদ নোমান ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরুতে হঠাৎ আত্মগোপনে চলে যান। ওই বছর ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্ব পর্যন্ত মোহাম্মদ নোমানকে এলাকায় দেখা যায় নি। ফলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমর্থনপুষ্ট হয়ে নির্বাচনে জয় লাভ করেন কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুল। এর কিছুদিন পর তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামও স্বতন্ত্র কোটায় মহিলা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
…ভাইয়ের সহায়তায় পাপুল কুয়েতে একটি স্থানীয় পরিচ্ছন্নতা সেবা দেওয়া কোম্পানির সুপারভাইজার হিসেবে চাকরি পান কুয়েতে।…
এমপি পাপুল কুয়েত ছেড়ে দেশে নিজের রাজত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন বলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়। দেশে রাজত্ব গড়ে তোলার কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম। অনুসন্ধানে তার প্রমাণও পাওয়া যায়। দেখা যায়, সিলেটেও সম্পদ রয়েছে এই দম্পতির। নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা নাইওরপুল মোড়ে তিনি ও তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামের নামে প্রায় ২৫ কোটি টাকার জায়গা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ৪৯ শতক জায়গার ওপর তাদের নামের সাইনবোর্ড ঝুলছে। এ নিয়ে সিলেটে চলছে নানা কানাঘুষা। শুধু সম্পদ নয়, সিলেটে তার আদম ব্যবসার কানেকশনও খোঁজা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ওই জায়গা সিলেটের ব্যবসায়ী আতাউল্লাহ সাকেরের কাছ থেকে এমপি পাপুল ক্রয় করেন। জায়গাতে এক সময় সিএনজি পেট্রোলপাম্প চালু করেছিলেন সাকের। কিছুদিন সেটি চালু থাকার পর বন্ধ করে দেন। দীর্ঘদিন জায়গাটি পরিত্যাক্ত থাকার পর ২০১২ সালে এমপি পাপুল নিজের ও তার স্ত্রীর নামে কেনেন। এখনও জায়গাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
জায়গার বিক্রেতা সাকের জানান, এমপি পাপুল নিজে ও তার স্ত্রীর নামে ২০১২ সালে জায়গাটি কিনে নেন। কত টাকায় বিক্রি করেছেন তার স্মরণে নেই বলে জানান সাকের। তবে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ফয়েজ আহমদ দৌলত বলেন, জায়গাটি ১২-১৩ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে শুনেছি। তিনি বলেন, ডিসিমেল প্রতি ২৩-২৪ লাখ টাকা করে বিক্রয় করা হয়েছে। জায়গার বর্তমান বাজারমূল্য ডিসিমেল প্রতি কম হলেও ৫০ লাখ টাকা হবে। সেই হিসেবে ৪৯ ডিসিমেল জায়গার মূল্য ২৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আমরা জানতাম না সেই জায়গার মালিক কুয়েতে গ্রেফতার হওয়া শহিদ ইসলাম। এখন জেনে অবাক হচ্ছি।
এর আগে কুয়েতের অন্যতম প্রধান আরবি দৈনিক আল রাইয়ের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, এমপি পাপুল কুয়েতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়ে আসার জন্য যে টাকা নিতেন তার একটা অংশ বাংলাদেশে তার প্রতিষ্ঠানকে দিতে হতো, যেটার পরিচালনার দায়িত্বে তার স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন। ব্যবসার চেয়ে মানব পাচার থেকেই এমপি পাপুল বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে রিপোর্টে বলা হয়। সম্প্রতি দুদক এমপি পাপুলের স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহিভূর্ত সম্পদ অর্জনের জন্য তদন্ত শুরু করেছে এবং তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
…এমপি পাপুল কুয়েতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে ‘কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল এমপি সমর্থক গোষ্ঠি’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে সেখানে এমপি পাপুলকে দানবীর এবং রাজনীতিতে মহান ব্যক্তি হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।…
অনুসন্ধানে দেখা যায়, এমপি পাপুল কুয়েতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে ‘কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল এমপি সমর্থক গোষ্ঠি’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে সেখানে এমপি পাপুলকে দানবীর এবং রাজনীতিতে মহান ব্যক্তি হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। গত সোমবার এই ফেসবুক পেজ থেকে একটি ভিডিও কনফারেন্স করা হয়। এতে প্রিয়াংকা নামের একজনের উপস্থাপনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা কথা বলেন। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন স্থানীয় রায়পুর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কাজী জামশেদ কবীর বাকী বিল্লাহ। এ ছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল পাঠানসহ সাতজন নেতা বক্তব্য রাখেন। তাদের মুখে একটাই কথা ছিল, এমপি পাপুল এলাকার এবং দেশে কল্যাণমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছিলেন। তিনি এখন ষড়যন্ত্রের শিকার।
এই পেজে পপুলার২৪নিউজ ডট কম নামে একটি পোর্টালের সংবাদ চিত্র পোস্ট করা হয়্, যেখানে কাজী শহীদ পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলামের একটি বক্তব্য প্রকাশ করা হয়।
সেই বক্তব্যে সেলিনা ইসলাম বলেন, ‘দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের শিকার কুয়েতে আটক থাকা প্রবাসী ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশের সাংসদ শহীদ ইসলাম পাপুল। কুয়েত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে পাপুলের কোম্পানি ‘মারাফি কুয়েতিয়ার’ ব্যবসায়িক চুক্তি হওয়ায় সেদেশে তার প্রতিদ্বন্দিরা তার বিরুদ্বে একজোট হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতিতেও ব্যাপক আলোচিত পাপুলের বিপরীতে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন শত্রুর সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, প্রকৃতপক্ষে তার স্বামী মোহাম্মদ শহীদ ইসলাম পাপুল কুয়েতে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি খ্যাতনামা মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও। এই কোম্পানিতে কুয়েতি অংশীদারও রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মরত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কুয়েতের সঙ্গে ব্যাবসা পরিচালনা করে আসছেন। পাপুল একজন গর্বিত রেমিট্যান্স যোদ্ধা। বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী চলক হলো ফরেন রেমিট্যান্স। আর পাপুল সেই রেমিট্যান্সই দেশে নিয়ে আসছেন। অথচ একজন সৎ ব্যবসায়ী এবং সুস্থ ধারার রাজনীতিবীদের সফলতাকে ভূলণ্ঠিত করার হীন প্রয়াশে জোট বেধেছে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা। তাদের এই প্রচেষ্টা সফল হবে না। ⛘








