অস্ট্রেলিয়ায় দমকল বাহিনীর বিমান বিধ্বস্তে হয়ে তিন মার্কিন নাগরিক নিহত
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে একটি দমকল বাহিনীর বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তিনজন নিহত হয়েছেন।
নিহতের সবাই মার্কিন নাগরিক বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যার পর অস্ট্রেলিয়ায় ফের বেড়েছে তাপমাত্রা। আর এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে আবারও বেড়েছে দাবানলের তীব্রতা।
বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি দাবানলের আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে নিয়োজিত ছিল।
এই দুর্ঘটনার বিষয়ে নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের প্রধান গ্ল্যাডিস বেরেজিকিলিয়ান জানান, নিউ সাউথ ওয়েল রাজ্যের স্নোয়ি মাউন্টেনের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিউ সাউথ ওয়েলস দমকল বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বিকালে ওই বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
হেরাল্ড জানায়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলসের স্নোয়ি মোনারো এলাকার এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল সি১৩০ মডেলের পানিবাহী বিমানটি।
পরে বিমানটি নিখোঁজ হলে সন্ধানে নামলে স্নোয়ি পর্বতমালার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুমা এলাকায় ট্যাংকারটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এ দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার দক্ষিণে পৌঁছাতেই হঠাৎ রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় বিমানটি।
দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশ, অস্ট্রেলিয়ার দাবানল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাত্র ১ মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এ মার্কিন বিমান আনা হয়।
গত তিন মাস ধরে চলা দাবানলে দেশটির উপসাগরীয় অঞ্চলের বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। আগুনে পুড়ে মারা গেছে লাখো বন্য প্রাণী।
এ নিয়ে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও দাবানল নিয়ন্ত্রের বাইরেই রয়ে গেছে।
এখনো নিউ সাউথ ওয়েলস ও ক্যানবেরার অন্তত ৮৫টি জায়গায় আগুন জ্বলছে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
এর মধ্যে ছয়টিতে জরুরি সতর্কতা জারি করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণাঞ্চলের বাতাস উপকূলের ওপর দিয়ে ধীরে ধরে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
এদিকে দাবানলের কারণে সৃষ্ট তীব্র ধোয়ার ক্যানবেরার আকাশ ছেয়ে গেছে। ক্যানবেরা বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।








