অর্থনৈতিক মন্দার কবলে ভারত, উদ্বিগ্ন আইএমএফ-এর
একসময়ের বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি ভারতের বর্তমান প্রবৃদ্ধির গতি খুবই মন্থর। উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। অর্থনীতির এ মন্দাভাব কাটিয়ে উঠতে ভারত সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থ তদারকির এই সংস্থা। তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে কয়েকটি নীতি বদল বা সেগুলির কিছুটা সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ।
তিন বছর আগেও ২০১৬ সালে যিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নোটবন্দির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন, এবার সেই আইএমএফ-এর ইকনমিক কাউন্সেলর ও গবেষণা বিভাগের অধিকর্তা গীতা গোপীনাথও ভারতের অর্থনৈতিক মন্দার জন্য দায়ী করেছেন পরিচালনব্যবস্থার গাফিলতিকে। সোমবার সকালে গীতা দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে দেখা করে তাঁর এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত জুন -জুলাইয়ে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিগত ৬ বছরের মধ্যে সর্বনিন্ম ছিল। এ বছর সেই প্রবৃদ্ধি ৭% থেকে নেমে বর্তমানে তা ৪.৫% এসে ঠেকেছে।
আইএমএফ-এর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত রনিল সালগাডো বলেছেন, ‘‘ভারতে আক্ষরিক অর্থেই অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। যা যথেষ্টই উদ্বেগজনক। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে দ্রুত কয়েকটি ব্যবস্থা নিতে হবে ভারতকে। কয়েকটি নীতির বদল ঘটাতে হবে বা সেগুলিকে কিছুটা সংশোধন করতে হবে।’’ বিশ্বের এগিয়ে থাকা অর্থনীতির কয়েকটি দেশের অন্যতম হয়ে ওঠার পর ভারতের এই মন্দায় যথেষ্টই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমএফ।
এই মন্দার কারণগুলি কী কী, তারও উল্লেখ করা হয়েছে আইএমএফ-এর বার্ষিক রিপোর্টে। সেখানে বলা হয়েছে, ভারতের বাজারে পণ্যাদি বিক্রির পরিমাণ কমেছে। কমেছে পুঁজি বিনিয়োগ। একই সঙ্গে কমেছে কর আদায়ের মাধ্য়মে রাজস্বের পরিমাণও। মন্দা চললে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই)-কে ঋণের উপর আদায় করা সুদের হারে কোপ বসাতেই হবে। যা অর্থনীতির স্বস্থ্যের পক্ষে মোটেই সুলক্ষণ নয়। আরবিআই ইতিমধ্যেই যে হার কমিয়েছে পাঁচ বার।
বিশ্বে এক সময়ের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দেশ ভারতে বর্তমানে ভোগ ও বিনিয়োগ কমেছে আশংকাজনক হারে। পাশাপাশি কর আদায়ে ব্যর্থতা দেশটির অর্থনীতির চাকাকে স্লথ করে দিয়েছে বলে সংস্থা আইএমএফ তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানায়। ভারত লক্ষ লক্ষ মানুষকে দারিদ্রতা থেকে বের করে আনার পরই এখন অর্থনৈতিক স্থবির অবস্থায় রয়েছে। রিপোর্টে এ আর্থিক স্থবিরতা কাটাতে দ্রুত জরুরী পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।
গত শুক্রবার আইএমএফ-এর ইকনমিক কাউন্সেলর ও গবেষণা বিভাগের অধিকর্তা গীতা বলেছিলেন, ‘‘আমার মনে হচ্ছে, এই অর্থনৈতিক মন্দার জন্য পরিচালনগত গাফিলতি, অনিশ্চয়তা একটা বড় ভূমিকা নিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারকে এ বার এই পরিচালনগত অনিশ্চয়তার বিষয়টি নিয়েও ভাবতে হবে।’’
প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণগুলি নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে গীতার। কী কী কারণে এই অর্থনৈতিক মন্দা, সেগুলি তিনি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে। শুনেছেন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য। কী ভাবে দ্রুত সেই মন্দার গ্রাস থেকে দেশ বেরিয়ে আসতে পারে, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে সে কথাও জানিয়েছেন তিনি।
গীতার বক্তব্য, ‘‘অর্থনৈতিক সংস্কারের পথেই ভারতকে এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু তার জন্য আরও বেশি স্বচ্ছতা আরও বেশি নিশ্চয়তার প্রয়োজন। না হলে অর্থনৈতিক সংস্কার সার্বিক ভাবে সফল হবে না।’’








