যুদ্ধ ও গাজা শাসনের নতুন পরিকল্পনা ইসরায়েলের
গাজায় ইসরায়েলের হামলা ৭ জানুয়ারি চার মাসে প্রবেশ করবে। এ অবস্থায় যুদ্ধের নতুন পর্ব ও যুদ্ধোত্তর গাজা কীভাবে শাসিত হবে তা নিয়ে নতুন পরিককল্পনা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইওভ গ্যালান্ট।
বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে ইওভ গ্যালান্ট এসব পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।
গ্যালান্ট বলেন, যুদ্ধের এ পর্যায়ে উত্তর গাজায় আমাদের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। তবে তা রণক্ষেত্রের অর্জনের ওপর নির্ভর করছে।
অন্যদিকে গাজার দক্ষিণে বিমান হামলা বাড়ানো হবে। সাথে ট্যাঙ্কার থেকেও টানা হামলা চালানো হবে। তবে এলোপাতাড়ি না করে দক্ষিণ দিকে গুচ্ছপদ্ধতিতে হামলা চালানো হবে। অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট এলাকা টার্গেট করে সেই স্থানে ব্যাপক হামলা চালানো হবে।
এসব কিছুর পাশাপাশি নিয়মিত হামলা, সুড়ঙ্গ ধ্বংস এবং বিশেষ অভিযান চলতে থাকবে।
অন্যদিকে যুদ্ধের পর গাজায় কীভাবে শাসন করা হতে তা নিয়ে চার স্তরের একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
পরিকল্পনাটি ইতোমধ্যে ইসরায়েলের অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধ মন্ত্রিসভা ও নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করা হয়েছে। এটিই ইসরায়েলের শীর্ষ কোনো কর্মকর্তার পক্ষ থেকে গাজার শাসনভার নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব। তবে প্রস্তাবটি এখনো ইসরায়েল নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের মধ্যে মতানৈক্য থাকায় এই প্রস্তাব পাস হওয়া নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পনায় গাজার শাসনভার ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণের কাছে থাকলেও অঞ্চলটিতে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে এই পরিকল্পনায় ইসরায়েলের বেসামরিক নাগরিকদের কোনো উপস্থিতি থাকবে না বলেও দাবি করা হয়েছে।
পরিকল্পনায় বাদ দেওয়া হয়েছে বিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের বিষয়টিও। অর্থাৎ, গাজা পুনর্গঠনের কোনো দায়ভার নেবে না ইসরায়েল। নিজের এই প্রস্তাবের বিষয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ত জানিয়েছেন, তিনি ধরেই নিয়েছেন যে গাজা থেকে হামাসকে নির্মূল করে ফেলবে ইসরায়েল ও সংগঠনটি তাদের জন্য আর হুমকি হয়ে দাড়াতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, তবে গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি বজায় থাকবে ও প্রয়োজনে যেকোনো সময় গাজার অভ্যন্তরে যেকোনো ধরনের অভিযান চালানোর অধিকার তাদের থাকবে। এ বিষয়ে গ্যালান্ত সাংবাদিকদের বলেন, গাজাবাসী যেহেতু ফিলিস্তিনি, তাই ফিলিস্তিনিরাই গাজার শাসনে থাকবে। তবে শর্ত হবে যে, কোনো ধরনে ঝুঁকি বা হুমকি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তৈরি করা যাবে না।’
তবে গাজার প্রশাসনে কোনো ইসরায়েলির উপস্থিতি না থাকার বিষয়টি নিয়ে ঘোর আপত্তি তুলেছে নেতানিয়াহু সরকারের কট্টরপন্থী অংশ। তাদের একজন অর্থমন্ত্রী বেজেলাল স্মতরিচ। তার ইচ্ছা, গাজায়ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপন করা হবে। তবে গ্যালান্তের পরিকল্পনায় এ বিষয়ে কোনো কিছুর উল্লেখ না থাকায় প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন স্মতরিচ।
গত বছরের ৭ অক্টোবর সীমান্তবেড়া ভেঙে ইসরায়েলে ঢুকে পড়েন হামাসের যোদ্ধারা। সেদিন তাদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ১৩৯ জন ইসরায়েলি নিহত হয় ও অন্তত ২৪০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে আসে হামাস।
জবাবে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ২২ হাজার ৫৫৫ জনের বেশি নিহত হয়েছে। নিহতদের ৭০ শতাংশ নারী ও শিশু। আহত হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলা ১৫৫ জন নিহত হয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছে ৩৫৭ জন। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে পশ্চিম তীরে একই সময়ে নিহত হয়েছে ৩০০ এর বেশি।
সূত্র : আল জাজিরা








