গৃহবধূকে ৬ জন মিলে ধর্ষণ, ইউপি সদস্য কারাগারে
কুমিল্লার মুরাদনগরে স্বামীকে জামিন পাইয়ে দেয়ার কথা বলে এক গৃহবধূকে সাত বার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৬ জনের বিরুদ্ধে। ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
ধর্ষক ৬ জন হলো, উপজেলা সদর ইউপির ডুমুরিয়া গ্রামের জায়েদ প্রধানের ছেলে ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ভোলা, ছাফর আলী প্রধানের ছেলে মোশারফ হোসেন, জসিম মিয়ার ছেলে রিয়াজ মিয়া, শাহিন শাহ্ এর ছেলে জালাল মিয়া, হাশেম মিয়ার ছেলে জীবন মিয়া ও বেয়ারী মিয়ার ছেলে রেনু মিয়া।
এ ঘটনায় সোমবার ধর্ষকদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ধর্ষক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ভোলাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর স্বামী নিজ এলাকার ২য় শ্রেণির স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা মামলায় কারাগারে যায়। স্বামী কারাগারে যাওয়ার পর শাশুরির সঙ্গে থাকতো ওই গৃহবধূ। এক পর্যায় ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার জামিনের জন্য কুমিল্লায় বাসা ভাড়া করে চলে যান শাশুড়ি। শাশুড়ি চলে যাওয়ার পর ওই গৃহবধূ স্বামীর জামিনের জন্য ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ভোলার কাছে সহযোগিতা চাইলে সে কাজের বাহানা দেখিয়ে রাতে আসার কথা বলে।
গত বছরের ২১ নভেম্বর রাতেই ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম গৃহবধুর স্বামীকে জামিনে ছাড়িয়ে দেওয়ার নানা প্রলোভন দেখিয়ে ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ঘটনা কারো কাছে প্রকাশ না করতে ভয়ভীতিও দেখান।
এ ঘটনার ১৪ দিনের মাথায় মামলার ২য় আসামি ইউপি সদস্য ভোলার সহযোগী মোশারফ হোসেন একই কায়দায় ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। তার একদিনের মাথায় ৩য় আসামি, পরদিন ৪র্থ আসামি, তারও একদিনের মাথায় ৫ম আসামি ও ৭ দিনের মাথায় ৬ষ্ঠ আসামি ওই গৃহবধূকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখ মামলার ৫ম আসামির মামা শ্বশুর জীবন মিয়া আবারও ওই গৃহবধূকে জোর পূর্বক ধর্ষণকালে জীবন মিয়ার স্ত্রী দেখে ফেলে। পরে জীবনের স্ত্রী মামী শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে ওই গৃহবধূর শাশুড়ির কাছে সব ঘটনা খুলে বলেন। এ সময় ছেলে জেলে থাকায় ধর্ষকদের ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারে নি শাশুড়ি।
মুরাদনগর থানার ওসি একেএম মনজুর আলম বলেন, এ ব্যাপারে মুরাদনগর থানায় ৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ভোলাকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আসামিদেরকে ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।◉








