আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে তামার দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে তামার দাম। মূলত ডলারের বিনিময়মূল্য কিছুটা কমায় বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছে। তবে ধাতুটির দাম এখনো ২০ মাসের সর্বনিম্নের কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় ধাতুটির চাহিদায় ভাটা পড়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
তথ্য বলছে, লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) তামার দাম দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টন লেনদেন হয়েছে ৭ হাজার ৫২৮ ডলারে। ১৫ জুলাই তামার দাম কমে ৬ হাজার ৯৫৫ ডলারে নেমে গিয়েছিল। তবে সে সময়ের তুলনায় দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে। যদিও মার্চের রেকর্ড সর্বোচ্চের তুলনায় ধাতুটির দাম প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি লাগামহীন হয়ে ওঠে। লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে খাদ্যশস্য, ভোজ্য ও জ্বালানি তেল, ধাতব পণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের দাম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বর্তমানে মুদ্রানীতি সংকোচনের পথে হাঁটছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড মাত্রায় সুদহার বাড়ানো হয়েছে। অন্যান্য বড় অর্থনীতির দেশগুলোও সুদহার বাড়াচ্ছে। এতে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। আর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তামার চাহিদায়।
চীন বিশ্বের শীর্ষ তামা ব্যবহারকারী দেশ। কিন্তু করোনা মহামারীর নতুন ঢেউয়ের কারণে দেশটিতেও ধাতুটির চাহিদা ব্যাপক কমেছে, যা বৈশ্বিক চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বিশ্লেষকরা জানান, দুই বছরের মধ্যে চাহিদাকে ছাড়িয়ে যাবে তামার বৈশ্বিক সরবরাহ। এ সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি বড় খনি প্রকল্প চালু হওয়ার কথা। এসব খনি থেকে বিপুল পরিমাণ তামা উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট কাটাতে সহায়তা করবে।
প্রতিষ্ঠানটি এক নোটে জানায়, চলতি বছর বিশ্ববাজারে শিল্প ধাতুটির গড় দাম পাউন্ডপ্রতি ৪ ডলার ৩২ সেন্টে অবস্থান করবে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে প্রতি পাউন্ডের দাম কমে ৩ ডলার ৭৫ সেন্টে নেমে আসবে। এ সময় বাজারে ঘাটতির পরিবর্তে উদ্বৃত্ত থাকবে। যদিও উদ্বৃত্তের আকার বেশি বড় হবে না।
চলতি বছরের মাঝামাঝি ও আগামী বছরের শুরুর দিকে শীর্ষ দেশগুলোয় বেশ কয়েকটি বড় তামা খনি প্রকল্প চালু হওয়ার কথা। এগুলোর মধ্যে অন্যতম পেরুর কোয়েলাভেকো, সার্বিয়ার তিমোক ও চিলির কোয়েব্রাডা ব্লাঙ্কা ফেইজ ২। এসব খনি উত্তোলন শুরু করলে চাহিদা প্রবৃদ্ধির হার স্বাভাবিক হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে চাহিদার চেয়েও বেশি সরবরাহ আসবে।








