লেবাননে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে বিদায়ী সংবর্ধনা
ওয়াসীম আকরাম, লেবানন থেকে : দীর্ঘ সাড়ে চার বছর দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফিরে যাওয়ার প্রাক্কালে লেবাননে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রদূতকে ‘প্রবাসী বান্ধব’ উপাধী দেওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিদায় জানাতে এ গণসংবর্ধনার আয়োজন করেন।
রোববার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আল কোলায় হোটেল রেস্ট প্যালেসে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় পবিত্র কোররআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
লেবাননের কমিউনিটি নেতা মশিউর রহমান টিটুর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের নিযুক্ত বৈরুত দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার। সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সিরাজুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দূতাবাসের প্রধান সচিব (শ্রম) দূতালয় প্রধান আবদুল্লাহ আল মামুন, দূতাবাসের তৃতীয় সচিব আবদুল আল সাফি, আমেরিকান ইউনিভার্সিটির সহকারি অধ্যাপক ইয়াজ উদ্দিন আহম্মদ।রাষ্ট্রদূতের তার বক্তব্যে বলেন, ‘বিগত সাড়ে চার বছরে আপনাদের মাঝে এখানে অনেক বক্তব্য রেখেছি। আজ শেষবারের মতো আমি আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি। শেষ মূহুর্তে হলেও আপনাদের সবাইকে একত্রিত দেখে আমি খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। আজকে সবাই আমাকে যে সম্মান দেখিয়েছেন সেটা কোনদিন ভুলতে পারব না। আমি সর্বাত্নক চেষ্টা করেছি আপনাদের সেবা দিতে। জানিনা কতটুকু সেবা দিতে পেরেছি।’
সংবর্ধনা বক্তব্য রাখেন, কমিউনিটির নেতা বাবুল মুন্সি, সুফিয়া আক্তার বেবী, মানিক মোল্লা, রুবেল আহমেদ, আবদুল করিম, শরিফ খান, ইমাম হোসেন মিলন, হাবিবুর রহমান হাবিব, মনির হোসেন জয়, শামিম আহমেদ, আলমগীর ইসলামসহ আরও অনেকে।
কমিউনিটি নেতারা রাষ্ট্রদূত আবদুল মোতালেব সরকারের প্রশংসা করে বলেন, লেবাননে এক লক্ষ ষাট হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির মাথার ছায়া ছিলেন তিনি। সর্বদা অসহায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবিভাবক হিসেবে লেবাননের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিমে বসবাসকারী প্রবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন।লেবাননের জেলে বন্দী প্রবাসীদের খোঁজখবর নিতে কারাগারেও চলে যেতেন। লেবানিজদের কাছে বাংলাদেশকে পরিচিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন তিনি।
বক্তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রদূত অসাধু দালালদের কঠোর হাতে দমন করেছেন। তাদের সঙ্গে কোনদিন আপোষ করেন নি। তিনি আসার আগে দেশে মৃতদেহ পাঠাতে দুই হাজার মার্কিন ডলার লাগত। এখন বিনা খরচে এবং দ্রুত ও অল্প সময়ের মধ্যে মৃতদেহ দেশে পাঠানো যায়।
এ সময়ে লেবানন প্রবাসীদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূতকে সম্মাননা মানপত্র প্রদানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন থেকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। কমিউনিটির পক্ষ থেকে মানপত্র পাঠ করেন মশিউর রহমান টিটু।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, লেবাননে দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস, প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা।








