মার্কিন নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থের যোগান
আসছে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। বিশাল এই নির্বাচন করতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। তবে দেশটির নির্বাচনী প্রচারণায় যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হয় তার পুরোটাই আসে ডোনারদের কাছ থেকে।
২০১৬ সালের নির্বাচনে মোট ব্যয় হয়েছিল সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলার। এবারের নির্বাচনের ব্যয় গত নির্বাচনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে তা হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারপরও এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।
নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ডোনারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থের অর্ধেকই ব্যয় হয় টেলিভিশন চ্যানেলে দলীয় প্রচারের কাজে। বিগত নির্বাচনের তুলনায় এবার টেলিভিশনের প্রচারে ব্যয় বেশি। কারণ, করোনার কারণে লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যে অধিকাংশ আমেরিকানই বাড়িতে অবস্থান করছেন। এই সময়ে টেলিভিশনে বিজ্ঞাপনের পেছনে তাই বেশি জোর দেওয়া হয়।
এরপরেই আছে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন। ট্রাম্প ও বাইডেন উভয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছেন। এরপরই প্রচারে ব্যয় হচ্ছে বেশি ক্যাম্পেইন কর্মী-কর্মকর্তাদের বেতন বাবদ। গত নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন ক্যাম্পেইনারদের বেতনই দিয়েছিলেন ৮৫ মিলিয়ন ডলার।
এই বিপুল পরিমাণ অর্থের মূল জোগানদাতা সাধারণ আমেরিকানরা। ২০০ ডলার বা তার কমও ক্যাম্পেইনে দিতে পারেন আমেরিকানরা। এ ছাড়া ধনী ব্যবসায়ী, করপোরেশন, বিভিন্ন সংস্থাও নির্বাচনের বড় ডোনার। যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ ব্যবসায়ী আছেন যারা ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি দান করেন নির্বাচনে।
তাছাড়া প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীরা ব্যক্তিগত পর্যায়ে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন এবং সেখানে আগত অতিথিরা একটা বড় পরিমাণ অর্থ দান করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে দেশের বাইরে থেকে তহবিল নেওয়া হয় না। কিন্তু বেশ কিছু সংগঠন আছে যারা নিজেরা তহবিলে অর্থ দান করলেও তাদের অর্থের উৎস মূলত বিভিন্ন দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে দেশগুলোর ব্যবসায়িক, কূটনৈতিক ও নীতিগত বোঝাপড়া আছে, তারা এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে যার কোনো লিখিত রেকর্ড রাখা হয় না।❐








