বাংলাদেশি সুমন সৈয়দ নিউইয়র্ক সিটি পুলিশে লেফটেন্যান্ট হলেন
এনওয়াইপিডির বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুমন এম. সৈয়দ।
এবার বাংলাদেশের এই কৃতি সন্তান নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের (এনওয়াইপিডি) লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পেলেন। বাংলাদেশে সুমন এম. সৈয়দের পৈত্রিক বাড়ি বৃহত্তর সিলেটের হবিগঞ্জ জেলায়।নিউইয়র্ক পুলিশের চাকরিতে যোগদানের পর প্রথম ধাপ হলো অফিসার পদ। পরীক্ষায় উন্নীত হয়ে সুমন সৈয়দ সার্জেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করেন।
সম্প্রতি তিনি সার্জেন্ট থেকে লেফটেন্যান্ট পদের পরীক্ষায় উন্নীত হন। স্থানীয় সময় বুধবার সকালে নিউইয়র্ক পুলিশের সদর দপ্তর ওয়ান পুলিশ প্লাজায় জমকালো এক অনুষ্ঠানে সুমনের হাতে পদোন্নতির সার্টিফিকেট তুলে দেন পুলিশ কমিশনার ডারমোট শিয়া।
পরে সুমনের স্ত্রী সৈয়েদা শায়লা মাসুদ কান্তা তাকে লেফটেন্যান্ট ব্যাজ পরিয়ে দেন।
অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট সুমনের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট প্রিন্স আলম, সিনিয়র সহ-সভাপতি সার্জেন্ট এরশাদুর সিদ্দিকী, মিডিয়া লিয়াজো ডিটেকটিভ জামিল সারোয়ার জনি, কমিউনিটি লিয়াজো ডিটেকটিভ মাসুদ রহমান, ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর অফিসার সরদার মামুন, সার্জেন্ট সোহেল খান ও সার্জেন্ট সাইদুল ও সাবেক ট্রাস্টি ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ প্রমুখ।
ডিটেকটিভ জামিল সারোয়ার জনি জানান, সুমন সৈয়দ ১৯৯৯ সালে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। সে সময় মাত্র তিন থেকে চারজন বাংলাদেশি-আমেরিকান নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
তিনি বলেন, কঠোর ত্যাগ এবং পরিশ্রমী অফিসার হিসেবে খুব অল্প দিনেই পুলিশ বিভাগে সুনাম অর্জন করেন তিনি। পেশার প্রতি কমিটমেন্ট, দক্ষতা ও সেবার অনন্য নজীর স্থাপন করেন বাংলাদেশি অফিসাররা। ডিটেকটিভ জামিল বলেন, ফলে অতি অল্পদিনে পুরো পুলিশ বিভাগে বাংলাদেশি অফিসারদের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের এই পেশায় যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি অনেকটা সহজ হয়ে যায়।
সুমন সৈয়দও ব্যক্তিগতভাবে সবসময় চাইতেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা পুলিশ বিভাগে যোগদান করুক। সে উদ্দেশ্য থেকেই কমিউনিটির স্বার্থে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি এবং আরও কজন অফিসার মিলে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)।
এছাড়া তিনি মুসলিম অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের করেসপন্ডেন্ট সেক্রেটারিও ছিলেন।
পদোন্নতি পেয়ে লেফটেনেন্ট সুমন এম. সৈয়দ সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সুমন সৈয়দ মনে করেন তার এ পদোন্নতি এ প্রজন্মের বাংলাদেশি আমেরিকানদের মধ্যে পুলিশ বিভাগে কাজ করার আগ্রহ সৃষ্টি করবে। তারা এগিয়ে এলেই নিউইয়র্ক শহরটি একটা নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে উঠবে।
সুমন সৈয়দ বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্কের কুইন্সে বাস করছেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভা র্সিটিতে।
উল্লেখ্য, লেফটেন্যান্ট পদের পরবর্তী ধাপ নির্বাহী কর্মকর্তার ক্যাপ্টেন পদ। এই পদ থেকেই রাজনৈতিক বিবেচনায় পুলিশের শীর্ষপদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেদিক থেকে দুজন বাংলাদেশি খন্দকার আব্দুল্লাহ ও কারাম চৌধুরী এগিয়ে রয়েছেন। যারা ইতিমধ্যে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে এমন আরও সদস্যরয়েছেন যারা ক্যাপ্টেন ও লেফটেন্যান্ট হিসেবে পদোন্নতি পাবেন।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে বর্তমানে দু শতাধিক বাংলাদেশি নিয়মিত অফিসার ও সহস্রাধিক বাংলাদেশি ট্রাফিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। ট্রাফিক বিভাগের নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যানেজার পদেও দায়িত্ব পালন করছেন বেশ কজন বাংলাদেশি। ♦








