ট্রাম্প করোনা টাস্কফোর্স ভেঙে দিচ্ছেন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনা মোকাবেলায় হোয়াইট হাউসের গঠিত টাস্কফোর্স ভেঙে দিতে চাইছেন। সমালোচকরা বলছেন, নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার লড়াইয়ের আগে দেশের অর্থনীতি চালু করতে গিয়ে নাগরিকদের জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে ফেলছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় এখন প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ নতুন আক্রান্ত হচ্ছেন এবং সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুসারে, আজ বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লক্ষ ৪১ হাজার ১০২ জন। মারা গেছেন ৭২ হাজার ৬৯৫ জন।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা গবেষণা সেন্টার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে এখন যে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বিদ্যমান, তাতে লকডাউন তুলে নিলে বা সামাজিক দুরত্ব না মেনে চললে আগামী ৪ আগস্ট পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় প্রাণহানী ১ লাখ ৩৪ হাজারে দাঁড়াবে।
এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় গঠিত হোয়াইট হাউস টাস্ক ফোর্স ভেঙে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার অ্যারিজোনার একটি মাস্ক উৎপাদন কারখানা পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।
লকডাউনের কারণে প্রায় এক সপ্তাহ হোয়াইট হাউসে অবস্থান করার পর মঙ্গলবার অ্যারিজোনার ফিনিক্স সফর করেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি বলেন, মাইক পেন্স ও টাস্ক ফোর্স অনেক ভালো কাজ করেছে। কিন্তু আমরা এখন একটু ভিন্নভাবে কিছু করতে চাইছি, এই ভিন্নতার কিছু হলো নিরাপত্তা ও অর্থনীতি চালু করা। আর এই কাজের জন্য আরেকটি গ্রুপ গঠন করা হতে পারে।
এ সময় গগলস পরলেও মাস্ক পরেন নি ট্রাম্প। এতে সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান, টাস্ক ফোর্সের কাজ শেষ হয়ে গেছে কিনা। জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, না, এখনও হয় নি। মহমারি চলে গেলে কাজ শেষ হবে।
করোনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেঙে পড়া অর্থনীতির প্রতি ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, আমরা আমাদের দেশকে আগের মতো ফিরে আনব। এক্ষেত্রে কিছু মানুষের প্রাণহানীর কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, আমি বলছি না সবকিছু একেবারে যথার্থ। হ্যাঁ, কিছু মানুষ আক্রান্ত হবেন। কিন্তু আমাদের দেশকে চালু করতে হবে এবং তা দ্রুত করতে হবে।
কবে নাগাদ টার্স্কফোর্স ভেঙে দেওয়া হবে- এ বিষয়ে ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা আসবে।
সমালোচকরা বলছেন, নভেম্বরে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার লড়াইয়ের দেশের অর্থনীতিকে ইস্যু করতে চাইছেন ট্রাম্প। আর এজন্যই এত মৃত্যু ও আক্রান্ত সত্ত্বেও টাস্কফোর্স ভেঙে দিচ্ছেন, লকডাউন তুলে দিচ্ছেন। আর এতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জীবন হুমকির মুখে ফেলছেন ট্রাম্প।◉








