কাফরুলে নারীকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ, ৬ জন গ্রেপ্তার
রাজধানীর কাফরুলে সীমা বেগম (৩১) নামে এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে কাফরুল থানা পুলিশ। রবিবার কাফরুলের বাইশটেকি এলাকা থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
কাফরুল থানার ওসি মো. সেলিমুজ্জামান জানান, সীমা নামে ওই নারীর হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সোমবার রাজধানীর উত্তরখান এলাকা থেকে তার সৎ ছেলে এস এম আশিকুর রহমান নাহিদকে (২৭) প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক পরে কাফরুলের ইমান নগর ও আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাকিয়া সুলতানা আইরিন (২২), আসেক উল্লা (৫০), রোকেয়া বেগম (৪০), শাহজাহান শিকদার (৫০) ও সাকিব (২০) নামে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা সবাই হত্যা মামলার আসামি।
পুলিশ জানায়, সীমাকে প্রথমে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার লাশ আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। নিহত নারীর লাশের ময়নাতদন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ মোকসেদপুর উপজেলার ডাংগা দূর্গাপুর গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দাফন করার কথা জানান স্বজনরা।
স্বজনরা জানান, নিহত সীমার প্রথম স্বামী ওবায়দুর রহমানের সঙ্গে সীমার ৮ থেকে ৯ বছর আগে ছাড়াছাড়ি হয়। ওই সংসারে হোসাইন আহমেদ (১৫) ও মাহিয়া (১০) নামে দুই সন্তান আছে। মেয়েটি গ্রামে দাদা-দাদীর কাছে ও ছেলেটি মিরপুরে থাকে। ঢাকায় সীমা কয়েক বছর ধরে একটি হাসপাতালের ফার্মেসিতে কাজ করে। গত ১০-১১ মাস আগেই তিনি শাহজাহান সিকদার নামে মিরপুরের এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন। শাহজাহানেরও এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। বিয়ের পর থেকে স্বামী শাহজাহানের আগের সংসারের ছেলে নাহিদ সিকদার ও তার স্ত্রী আইরিনকে নিয়ে মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের ইমামনগর পূর্ব বাইশটেকি ৫৫ /৬ /সি, নম্বর ৭ তলা বাসায় থাকত।
সীমার বাবা আইয়ুব আলী সরদার জানান, প্রথম দিকে নাহিদের সঙ্গে তার সৎ মা সীমার সম্পর্ক বেশ ভালোই ছিলো। তবে কিছুদিন আগে নাহিদ শ্বশুড় বাড়ি থেকে আসার পর পরিবারে ঝামেলা শুরু করে। সে বলতে থাকে বাবা ও সৎ মায়ের সঙ্গে না থেকে আলাদা থাকবে। শনিবার রাতে সৎ ছেলে নাহিদের সঙ্গে পারিবারিক বিষয়ে ঝগড়া হয়। নাহিদের শ্বশুড়-শাশুড়ী ও স্ত্রী, নাহিদের বাবা ও সৎ মা সীমাসহ সবাই বসে বিষয়টি মীমাংসা করে।
আইয়ুব আলী আরও জানান, সীমা তাকে ফোনে জানান, নাহিদ স্ত্রী নিয়ে আলাদা থাকবে। তবে তাকে মাসে ৫০ হাজার টাকা হাত খরচ দিতে হবে বলে দাবী করে। পারিবারিকভাবে তার বাবা তাকে আলাদা হয়ে যেতে বারণ করেন এবং একসঙ্গে থাকতে বলেন। এক সঙ্গে থাকলেও তাকে মাসে ২০ হাজার টাকা হাত খরচ দেওয়ার কথা বলেন বাবা। তবুও ছেলে নাহিদ তা মানে নি। নাহিদের বাবা শাহজাহানের ২টি ফ্ল্যাট ও কার্টনের ব্যবসা ছিল। নাহিদ ভেবেছিল তিনি হয়ত দ্বিতীয় স্ত্রীকে এসব লিখে দিবে। এসব বিষয় নিয়ে সৎমার সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করে নাহিদ।
সীমার বাবা জানান, সম্পত্তির লোভে নাহিদ পরিকল্পিতভাবে সৎমা সীমাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার করে ও পরে লাশ পুড়িয়ে ফেলে।
সীমার প্রথম সংসারের ছেলে হোসাইন আহমেদ বলেন, সে মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে থাকে। একটি ওয়াশিং ফ্যাক্টরিতে কাজ করে সে। তার মায়ের সঙ্গে ৩-৪ দিন আগে ফোনে কথা হয়েছিল তার। শীতের জামাকাপড়, টাকা পয়সা লাগবে কিনা এসব জানতে চায় তার মা। সেটাই ছিল মায়ের সঙ্গে শেষ কথা।❐








