আটলান্টিক সিটিতে আয়োজিত হলো জমজমাট পিঠা উৎসব
সুব্রত চৌধুরী, আটলান্টিক সিটি থেকে: ‘পিঠা ছাড়া বাঙালির শীত জমেই না’- অনেকটা প্রবাদ বাক্যের মতোই প্রচলিত এই আপ্তবাক্যটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিদের মনোভূমে এমনভাবে প্রোথিত হয়ে আছে যে সুদূর প্রবাসে বসেও তারা পিঠার সংস্কৃতিকে ভুলতে পারেন নি। তুষার ভেজা শীতের রাতেও তাই শীতের আনন্দ উপভোগ করতে প্রবাসী বাঙালিরা মেতে উঠেছিলেন জমজমাট পিঠা উৎসবে।
নিউজার্সি রাজ্যের আটলান্টিক সিটির ২৭০৯, ফেয়ারমাউনট এভিনিউয়ে সেদিন ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টারে জমে উঠেছিল ‘পিঠা উৎসব।’
আর এ উৎসবের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সি ও বাংলাদেশ কমিউনিটি সেনটা। অসংখ্য প্রবাসী বাঙালিদেরকে পিঠার স্বাদ আস্বাদনের সুযোগ করে দিতেই এই পিঠা উৎসবের আয়োজন।
আয়োজনে ছিল নকশী পিঠা, চন্দ্রপুলি, পাকানো পিঠা, সাপ পিঠা,ক্ষীর পিঠাসহ অসংখ্য বাহারি নামের, বাহারি নকশার আর বাহারি স্বাদের হরেকরকম পিঠা। পিঠার ম ম গন্ধে উপস্থিত বাঙালিদের মনপ্রাণ জুড়িয়েছিল সেদিন।তারা পিঠার স্বাদ আস্বাদন করতে করতে অনেকে নষ্টালজিক হয়ে পড়েছিলেন। নিজের অজান্তেই কেউ কেউ বিড়বিড় করে আউড়েছিলেন, ‘পৌষ পার্বণে পিঠা খেতে বসে খুশিতে বিষম খেয়ে, আরো উল্লাস জাগিছে মনে মায়ের বকুনি খেয়ে।’
সেদিন পিঠা উৎসবে বাংলাদেশ কমিউনিটিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির লোকজন অংশগ্রহণ করেন।
পিঠা উৎসবের আয়োজন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সির সভাপতি জহিরুল ইসলাম বাবুল জানান, প্রবাসে আমাদের লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশের লক্ষ্যেই তারা পিঠা উৎসবের এ আয়োজন করেছেন। বিশেষ করে প্রবাসে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের মনোভূমে লোকজ সংস্কৃতি জাগরুক রাখার লক্ষ্যেই তাদের এ প্রয়াস।
পিঠা উৎসবে বিজয়ীরা হলেন পারভীন আক্তার,নাহিদা শিপন ও কামরুননাহার। বিজয়ীদেরকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হয়।
বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সির সভাপতি জহিরুল ইসলাম বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম খোকা পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।








