নিজ দলেই তোপের মুখে ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এমন ঝামেলার মধ্যে পড়েন নি। তাকে এখন তার পার্টির কাছেই জবাবদিহি করতে হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ে।
ফলে নিজ দলের ভেতরই তোপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শুরুটা ক্ষমতা ছাড়া নিয়ে হলেও আরও অনেক ইস্যু যুক্ত করে তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শীর্ষ রিপাবলিকান নেতারা।
সিনেটে রিপাবলিকানদের নেতা মিচ ম্যাককনেল ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে জানিয়েছেন, নির্বাচনে তাদের দল হেরে গেলে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।
গত বৃহস্পতিবার এক টুইটে ম্যাককনেল বলেন, ‘৩ নভেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী অভিষিক্ত হবেন ২০ জানুয়ারি। সে সময় নিয়মতান্ত্রিকভাবেই ক্ষমতা হস্তান্তর হবে, যেমনটা ১৯৭২ সাল থেকে প্রতি চার বছর পরপর হয়ে আসছে।’
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ আরেক সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও প্রায় একই কথা বলেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি, এটি শান্তিপূর্ণভাবেই হবে। রিপাবলিকানরা হেরে গেলে আমরা ফলাফল মেনে নেব। সুপ্রিম কোর্ট যদি জো বাইডেনের পক্ষে রায় দেয়, আমি তা মেনে নেব।’
তবে রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি বেশ কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। গত বুধবার তিনি বলেছেন, ‘একজন প্রেসিডেন্ট সাংবিধানিক নিশ্চয়তাকে সম্মান করছেন না এমন যে কোনও বিষয়ই অভাবনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য।’
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রিপাবলিকান শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেওয়ায় প্রভাব পড়েছে নির্বাচনী প্রচারে। দেশটির নির্বাচনবিষয়ক বিশ্লেষকরা স্থানীয় কয়েকটি জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, ট্রাম্পের সর্বশেষ আলোচিত বক্তব্যকে ঘিরে যেসব ভোটার এখনো কাকে ভোট দেবেন সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি, তাদের মধ্যে অস্বস্তি শুরু হয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য তাদের ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকতে সহায়তা করবে বলেও তারা মনে করছেন। শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রশ্নে আগেও ট্রাম্পের উত্তর ছিল, শুধু ফলাফল দেখেই তিনি বলতে পারবেন ক্ষমতা ছাড়বেন কি না।
গত বুধবার হোয়াইট হাউজের সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে আবারও প্রশ্ন করেন, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করছেন কি না?
জবাবে ট্রাম্প বলেন, তার বিশ্বাস মহামারীর সময় ডাকযোগে বর্ধিত ভোট না হলে ক্ষমতা হস্তান্তরেরই কোনও দরকারই হবে না।❐








