ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এভিয়েশন খাত
করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর ফের ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এভিয়েশন খাত। ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। সচল হচ্ছে এয়ারলাইন্স কোম্পানিগুলো। বিশ্বব্যাপী প্রতিদিনই বাড়ছে ফ্লাইটের সংখ্যা।
ইতোমধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ বেশিরভাগ রুটে বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। আর ১৬ জুন থেকে চালু হয়েছে আন্তর্জাতিক রুটও।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয় ক্যারিয়ার বাংলাদেশ বিমান ও কাতার এয়ারলাইন্সকে দিয়ে যাত্রা শুরু হয় আন্তর্জাতিক রুটের। কিন্তু যাত্রীর চাপের কারণে ৪ দিনের ব্যবধানে আরও তিনটি এয়ারলাইন্স যাতে ফ্লাইট চালু করতে পারে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
সেই অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুন রাতে ঢাকায় এসে পৌঁছাবে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের প্রথম ফ্লাইট। ৩ জুলাই থেকে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে পারে টার্কিশ এয়ারও। এ ছাড়া শারজাহভিত্তিক বাজেট ক্যারিয়ার এয়ার অ্যারাবিয়াকেও জুলাইয়ের শুরুর দিকে ফ্লাইট চালু করার অনুমতি দিতে পারে সরকার।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে ফ্লাই দুবাই, ইতেহাদ, কুয়েত এয়ারওয়েজ, বাহরাইন এয়ার, ওমান এয়ার, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স, সিঙ্গাপুর এয়ারসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্সকে ঢাকা থেকে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করার অনুমতি দেবে সরকার।
সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস শুরুর পর সর্বশেষ শুক্রবার পর্যন্ত বিশ্বে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটার্ডার ২৪ডটকম জানিয়েছে, জুনের ১৮ তারিখ পর্যন্ত বিশ্বে ৫০ হাজার ৩৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অপারেট করা হয়েছে। এ সংখ্যা দিনদিনই বাড়ছে।
এদিকে গত ১৬ জুন থেকে দেশে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালুর খবরে হুমড়ি খেয়ে পড়েন যাত্রীরা। শুরুতে শুধু একটি এয়ারলাইন্সকে (কাতার এয়ারওয়েজ) অনুমতি দেওয়ায় যাত্রীর চাপে হিমশিম খেতে হয়েছে ওই এয়ারলাইন্সকে। সুযোগ বুঝে কাতার এয়ারওয়েজও তাদের অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টগুলো এক লাফে ভাড়া বাড়িয়ে দেয় ৩/৪ গুণ। তারপরও টিকিটের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন যাত্রীরা।
একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে কাতার এয়ারওয়েজের অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়। জানা গেছে, তারপরও আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ইউরোপ ও আমেরিকার কোনও গন্তব্যে কাতার এয়ারওয়েজের টিকিট নেই।
বাংলাদেশ বিমান রোববার থেকে সপ্তাহে ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা রুটে একটি ফ্লাইট চালু করেছে। রোববার দুপুর ১২টা ২ মিনিটে ১৮৭ জন যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে। আজ সিলেট হয়ে ফ্লাইটটি ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বির হোসেন বলেছেন, যাত্রী চাহিদার ভিত্তিতে আস্তে আস্তে ফ্লাইটের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
ইতোমধ্যে ৩০টি গন্তব্যে ফ্লাইট চালু করেছে এমিরেটস। আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে আরও ১০টি গন্তব্যে ফ্লাইট চালু করবে তারা। ঢাকা থেকে ফ্লাইট চালু করার জন্য বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা বেবিচকে আবেদন জানিয়েছে।
শারজাহভিত্তিক বাজেট এয়ারলাইন্স এয়ার অ্যারাবিয়া রোববার ঢাকা থেকে ফ্লাইট চালু করার অনুমতি চেয়ে বেবিচককে চিঠি দিয়েছে। বিমান সংস্থাটির বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মো. মবিন রশিদ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে তারা বলেন, অনুমতি পেলে ১ জুলাই থেকে ফ্লাইট চালু করার প্রস্তুতি আছে তাদের।
তারা শারহাজ হয়ে ভিয়েনা, মস্কো, ইস্তাম্বুল, বাকু, মিসর, আলেকজান্দ্রিয়া, নাইরোবি, সুদান, হাঙ্গেরি, তিউনেসিয়াসহ অন্যান্য দেশে ফ্লাইট চালাবে।
এদিকে অভ্যন্তরীণ আকাশপথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর ও সৈয়দপুর রুটে ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শিগগির চালু হতে পারে কক্সবাজার, বরিশাল, রাজশাহী বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্লাইট চালু করার মতো সব প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। বিমানবন্দর টার্মিনালে ঢোকার আগে যাত্রীদের জন্য বোর্ডিং গেটে তিনটি জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন করা হয়েছে। ভিআইপি টার্মিনালসহ বিমানবন্দরের অন্যান্য ফটকে আরও চারটি জীবাণুনাশক টানেল বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ইউএস-বাংলা বর্তমানে দিনে ৩২টি ও নভোএয়ার ২২টি করে ফ্লাইট অপারেট করছে। ইউএস-বাংলার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বলেন, তাদের ফ্লাইট সংখ্যা ধীরে ধীরে আরও বাড়বে। আন্তর্জাতিক রুটে তারা আরও বেশি ফ্লাইট চালাতে চাচ্ছেন বলেও তিনি জানান।⛘








