ট্রাম্পের এক পরামর্শে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে সতর্কবার্তা জারি
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার একটি হটলাইনে ঢলের মতো ফোন আসছে। সবাই জানতে চাইছে, জীবাণুনাশক ইনজেকশন নিলে করোনাভাইরাস সারবে কিনা?
এসব প্রশ্নের নেপথ্যে রয়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক পরামর্শ। তিনি বলেছিলেন, জীবাণুনাশক ইনজেকশন শরীরে পুশ করলে কিংবা অতিবেগুনি রশ্মি বা অতি তাপ শরীরে দিয়েও করোনাভাইরাসের চিকিৎসা করা যেতে পারে।
তার এমন পরামর্শের পরই মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়ে। এতে বাধ্য হয়েই মেরিল্যান্ড কর্তৃপক্ষকে সতর্কবাণী দিতে হয়েছে। ওয়াশিংটনেও জারি করা হয়েছে সতর্কবার্তা- ‘কোনও অবস্থাতেই করোনার চিকিৎসায় জীবাণুনাশক ব্যবহার নয়।’ এ নিয়ে অ্যালার্ট জারি করেছেন দেশটির চিকিৎসকরা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কোনও অবস্থাতেই মানবদেহের ভেতরে জীবাণুনাশক প্রয়োগ না করার ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করেছে জীবাণুনাশক উৎপাদনকারী বহুজাতিক কোম্পানি রেকিট বেনকিজার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে জীবাণুনাশক ঢুকিয়ে করোনাভাইরাসের চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়ার পর এ সতর্কবার্তা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিবিসির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবাণুনাশক নিয়ে ওই পরামর্শ দেওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে পড়েছেন ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে জাবাণুনাশক ঢুকলে বিষক্রিয়ায় মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। এমনকি শরীরের বাইরের অংশও অতিমাত্রায় জীবাণুনাশকের সংস্পর্শে এলে তা চামড়া, চোখ, এমনকি শ্বাসযন্ত্রের জন্য বিপদ তৈরি করতে পারে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে করোনাভাইরাস বিষয়ক একটি টাস্কফোর্সের ব্রিফিংয়ে একজন কর্মকর্তা মার্কিন সরকারের একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
এতে বলা হয়, সূর্যালোক ও তাপের সংস্পর্শে এলে করোনাভাইরাস দুর্বল হয়ে পড়ে। সেখানে বলা হয়, লালা বা শ্বাসতন্ত্রের তরলে থাকা ভাইরাসের জীবাণু পাঁচ মিনিটেই মেরে ফেলতে পারে ব্লিচ।
তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প, অতিবেগুণি রশ্মি বা শক্তিশালী আলো ব্যবহার করে চিকিৎসা করা যায় কিনা, তা নিয়ে আরো গবেষণা করার পরামর্শ দেন। সেই সঙ্গে ইনজেকশন দিয়ে জীবাণুনাশক শরীরে প্রবেশ করিয়ে করোনার চিকিৎসার কথা বলেন তিনি। অবশ্য তার এমন পরামর্শ নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। ফেসবুক ও টুইটারে সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। এরপরই শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, বৃহস্পতিবার তিনি মজা করে ওই কথা করেছিলেন। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারিও বলেছেন, গণমাধ্যম নেতিবাচক হেডলাইন দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য অপ্রাসঙ্গিকভাবে প্রচার করছে।
তবে মেরিল্যান্ডের গভর্নরের অফিস থেকে জানানো হয়েছে, সেখানকার হটলাইনে জীবাণুনাশক খাওয়ার ব্যাপারে একশ’র বেশি টেলিফোন আসার পর সতর্কবার্তা জারি করেছে জরুরি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি। চিকিৎসকরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, প্রেসিডেন্টের ওই পরামর্শ মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির চিকিৎসক জোনাথক স্পাইসার বলেন, জীবাণুনাশক পণ্যের মধ্যে যে সব ক্ষয়কারী উপাদান রয়েছে, তা আমাদের শরীরের ভেতরটা ধ্বংস করে দিতে পারে। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো পণ্য শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানো বা খাওয়া চরম বিপজ্জনক হবে।
জীবাণুনাশক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রেকিট বেনকিজার বলেছে, কোনো অবস্থাতেই তাদের তৈরি পণ্য শরীরের ইনজেকশন হিসেবে প্রয়োগ করা বা খাওয়া উচিত হবে না। জীবাণুনাশক বা এ জাতীয় উপাদানগুলো বিষাক্ত হতে পারে। এগুলো শরীরের সংস্পর্শে এলে এমনকি ত্বক, চোখ বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যারও তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসা বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি এবারই প্রথম নয়। করোনাভাইরাসের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এর আগে তিনি ম্যালেরিয়ার একটি ওষুধ, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলেন। যদিও এ নিয়ে গবেষণালদ্ধ কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই, বরং অনেকে এটা ক্ষতিকর হতে পারে বলেও মনে করেন।◉








