আগামী শীতে যুক্তরাষ্ট্রে খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে: সিডিসি’র পরিচালক
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) পরিচালক ও শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. রবার্ট রেডফিল্ড বলেছেন, আগামী শীতে সাধারণ ফ্লুর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় দফায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হতে পারে। যদি তা হয় তাহলে বর্তমানের চেয়ে বহুগুণ বেশি স্বাস্থ্য সংকটের সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রেডফিল্ডের একটি সাক্ষাৎকার দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। সাক্ষাৎকারে রেডফিল্ড বলেছেন, ‘আগামী শীতে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হতে পারে। সেটি হলে বর্তমানে আমরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তার থেকেও খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। আমি এই বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে চাইছি। কিন্তু তারা বিষয়টি বুঝতেই চাইছেন না।’
প্রতিবছর শীতের সময় যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ ফ্লুতেই বহু মানুষের প্রাণ যায়। এই বিষয়টি আমলে নিয়ে রেডফিল্ড বলেছেন, ‘সামনে হয়তো আমাদের ফ্লুর মহামারী ও করোনার মহামারী, দুই-ই সামলাতে হতে পারে। সত্যি সত্যি খুব কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে তখন।’
যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লুর মৌসুম শুরু হয় সেপ্টেম্বর থেকে। এই মৌসুম শেষ হতে চলেছে। সিডিসির হিসাবে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ ফ্লুতে ৩৪ হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
প্রায় চার কোটি মানুষ এই ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সাধারণ ফ্লু প্রতিরোধে ওষুধ থাকলেও করোনা প্রতিরোধে কোনও ওষুধ এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয় নি। আগামী শীত মৌসুমের আগে করোনার কোনও টিকা বা ওষুধ আবিষ্কার না হলে তা আরও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) পরিচালক ও শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. রবার্ট রেডফিল্ড। ছবি: মার্কেট ওয়াচ
এ বছর সাধারণ ফ্লুর মৌসুম যখন শেষ হতে চলেছে, তখনই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে। তবে এ দুটি সংক্রমণ একসঙ্গে শুরু হলে পরিণতি যে ভয়াবহ হতে পারে, তা দেশটির করোনা পরিস্থিতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
রেডফিল্ডের মন্তব্যের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের করোনা টাস্কফোর্সের সমন্বয়কারী ডা. ডেবোরাহ বার্সকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আগামী শীতে করোনার সংক্রমণ ছড়াবে কিনা তা আমরা এখনও নিশ্চিত নই। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা আমাদের থাকবে।’
এমন এক সময় রেডফিল্ড এ মন্তব্য করলেন যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লকডাউন তুলে নেওয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। আগামী মাস থেকে হয়ত অনেক রাজ্যে লকডাউন তুলেও নেওয়া হতে পারে। বিভিন্ন রাজ্যে লকডাউনের বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভও হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় রেডফিল্ড বলেন, ‘যদি লকডাউন তুলেও নেওয়া হয়, তাহলেও যেন সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে মেনে চলার বিধান রাখা হয়। কারণ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা ছাড়া ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করা প্রায় অসম্ভব।’
যারা রাস্তায় লকডাউনবিরোধী বিক্ষোভ করছেন, তাদের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে রেডফিল্ড বলেন, ‘এ ধরনের বিক্ষোভ অপ্রত্যাশিত।’
এ সময় তিনি রাজ্য ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘পরীক্ষা করে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের দ্রুত আলাদা করে ফেলতে হবে।’
দ্রুত এসব কাজের জন্য সিডিসি লোকবল বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।
আড়াই মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়। বর্তমানে দেশটির আট লাখের বেশি মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত। মৃত্যু হয়েছে ৪৫ হাজারের বেশি মানুষের।◉
সিএনএন








