জ্যাকসন হাইটসে বিনামূল্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, গ্লাভস বিতরণ
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নিউ ইয়র্কসহ গোটা বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্রে এই সংখ্যা বাড়তে থাকায় জরুরী অবস্থা জারি করা হয়েছে। সংকট পড়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজেশন, মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভসসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসের। বিভিন্ন দোকানে এইসব জিনিস পাওয়া যাচ্ছে না। যেখানে অল্প বিস্তর পাওয়া যাচ্ছে সেখানে আবার মূল্য অনেক বেশি। অনেকে অতিরিক্ত দাম দিয়েও পাচ্ছেন না।
এই অবস্থায় যে যার জায়গা থেকে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতার চেষ্টা করছেন। যারা কিনতে পারছেন না, জ্যাকসন হাইটস্ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তাদের জন্যে বিনামূল্যে বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১৬ মার্চ দুপুরে জ্যাকসন হাইটসের অধিবাসীদেরকে হ্যান্ড স্যানিটাইজেশন, গ্লাভসসহ হেলথ স্যানেটাইজেশনের বিভিন্ন উপকরণ বিনামূল্যে প্রদান করেন।
আয়োজকদের পরিকল্পনা ছিল এক ঘন্টা সময়সীমায় যারা আসবেন তাদের সকলকে স্যানেটাইজেশন উপকরণ দেওয়া হবে। কিন্তু এত মানুষের অতিরিক্ত উপস্থিতির ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই সব বিতরণ হয়ে যায়। জ্যাকসন হাইটসের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নারী পুরুষ নির্বিশেষে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে সেসব গ্রহণ করেন। গ্রহণকারীরা বেশির ভাগই দোকানে স্যানেটাইজেশন উপকরণ না পেয়ে সেখান থেকে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
জ্যাকসন হাইট্স অধিবাসীদের মধ্যে ব্যবসায়ী হারুন ভুঁইয়া, মো. জি আলম নমি, মঞ্জুর হোসেন, শাহ্ জে. চৌধুরীসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে সম্ভব হলে আবারও বিতরণ করবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের কারণে ইতোমধ্যে আমেরিকায় ৪,৫৯৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এই পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৮৬ ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার থেকে বার, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাসিনোসহ অন্যান্য দোকান পাট রাত আটটার পর থেকে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
সোমবার রাত আটটার পর থেকে এই ধরণের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়ার পর অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোতে সব খাবার বিক্রি করা সম্ভব হয় নি। করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়াচ্ছে।ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেড় লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যের সংখ্যা সাড়ে ছয় হাজারের বেশি। সবেচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে চীন, ইরান ও ইটালি। বিশ্বের ১৪৬টি দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে। এখনও পর্যন্ত এ ভাইরাস দমনে কোনও প্রতিষেধক তৈরি করা সম্ভব হয় নি।
সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে,
যুক্তরাষ্ট্রে মহামারী করোনাভাইরাসের বহুল কাঙ্ক্ষিত ভ্যাকসিনের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন রাজ্যের সিয়াটল শহরের কেইসার পার্লামেন্ট রিসার্চ সেন্টারে এই ভ্যাকসিন পরীক্ষার কার্যক্রম চালানো হবে।সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়াসহ আরও বিভিন্ন দেশ টিকা তৈরির দাবি করছে।
দিন যত যাচ্ছে এই সংক্রান্ত ভাইরাসের প্রভাব ও প্রকোপ বাড়ছে। এখনও যারা কাজের প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যাচ্ছেন তারা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে হ্যান্ড স্যানিটাইজেশন ব্যবহার করছেন। তবে বাজারে সংকট থাকায় সরবরাহ অনেক কম।♦








