নরেন্দ্র মোদি হবেন মুজিব বর্ষ উদযাপনের প্রধান অতিথি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকীর বর্ষব্যাপী উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ সফরে আসবেন। আসছে ১৭ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন তিনি।
আসন্ন এ সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে দিল্লির আগ্রহের বহির্প্রকাশ হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা। অনুষ্ঠানের আগের দিন মোদি ঢাকায় পৌঁছাবেন। হিন্দুস্তান টাইমস।
খবরে বলা হয়, এমন এক সময় মোদির এ সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যার কিছুদিন আগেই বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন পাস করে ভারত। ওই আইনে ২০১৫ সালের আগে ভারতে গিয়ে বসবাস করা সব অমুসলিমকে দেশটির নাগরিকত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এ আইনকে কেন্দ্র করে দৃশ্যত দু দেশের মধ্যকার সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি হয়।
আসামের ২০১৯ সালের নাগরিকপঞ্জির পাশাপাশি নতুন নাগরিকত্ব আইনও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি রাজ্যে বাংলাদেশ থেকে কথিত অবৈধ অনুপ্রবেশের ইঙ্গিত দিয়েছিল। ২০১৩ সালের ১১ ডিসেম্বর ভারতের পার্লামেন্টে সিএএ (নাগরিকত্ব আইন) পাস হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের তিন মন্ত্রী বিভিন্ন কারণে ভারত সফর বাতিল করেন।
২০ জানুয়ারি গালফ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিএএর প্রয়োজন ছিল না বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে একইসঙ্গে তিনি এটিকে ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
এ বছর ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে দেশটির তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মভূষণ পদকে ভূষিত করা হয়। তারা হচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী এবং খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ইনামুল হক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে মোদি বোঝাতে চাইছেন ভারতের বিতর্কিত নাগরিকপঞ্জি ও নাগরিকত্ব আইন সত্ত্বেও দু’দেশের সম্পর্ক এখনও বেশ মজবুত। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারত তার পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে স্বাচ্ছন্দ্যে নিঃশ্বাস ফেলছে।
বাংলাদেশ সরকার প্যান-ইসলামিক সন্ত্রাসবাদী এবং জামা’আতুল মুজাহিদীনের মতো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। নিয়মিত তথ্য বিনিময়ে উভয় দেশই সীমান্তে পরস্পরকে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করে আসছে। উভয় দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে বার্ষিক আলাপ-আলোচনা হয়।








