আবারও চরমে মার্কিন-তুর্কি দ্বন্দ্ব
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তুর্কি বাহিনী আর্মেনিয়ার ওপর গণহত্যা চালিয়েছে বলে কয়েকদিন আগে মার্কিন সিনেটে সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ওই প্রস্তাবের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আদিবাসী হত্যার বিষয়টিকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার হুমকি দেন।
এখানে উল্লেখ্য, আর্মেনিয়া বরাবরই দাবি করে আসছে যে- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ওসমানীয় সাম্রাজ্যের হাতে দেড় লাখ আর্মেনীয়বাসী নিহত, কারাবন্দী অথবা বলপূর্বক বহিষ্কৃত হয়েছেন। তবে তুরস্কের দাবি- ওসমানীয় সম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আর্মেনিয়া বিদ্রোহ শুরু করলে সে সময় তিন থেকে পাঁচ লাখ আর্মেনীয় নিহত হয়েছে; সমানসংখ্যক তুর্কি নাগরিকও সে সময় মারা গেছে।
এই দীর্ঘ দোষারোপের বিতর্কের এক পর্যায়ে, কয়েকদিন আগে মার্কিন সিনেটে সর্বসম্মতিক্রমে তুর্কি বাহিনী আর্মেনিয়ার ওপর গণহত্যা চালিয়েছে বলে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ওই প্রস্তাবের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আদিবাসী হত্যার বিষয়টিকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার হুমকি দেন।
ওসমানীয় খিলাফাহ’র সময় আর্মেনিয়ার খ্রিস্টানদের ওপর তুর্কি সেনারা গণহত্যা চালিয়েছে বলে মার্কিন সিনেটে এক প্রস্তাব পাস হওয়ার পরপরই এই প্রতিক্রিয়া জানিয়ছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। এরদোগান বলেছেন, আমেরিকার লাখ লাখ আদিবাসীর ওপর যে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে তাকে গণহত্যা বলে স্বীকৃতি দেবে তার দেশ।
মার্কিন সিনেটের সেই প্রস্তাব পাসের ব্যাপারে প্রশ্নের এক জবাবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান সোমবার হাভের টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মার্কিন সিনেটের পদক্ষেপের বিপরীতে তুরস্কের পার্লামেন্টেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত এবং তুরস্ক তাই করবে।
এরদোগান বলেন, ‘আমেরিকার আদিবাসীদের কথা বাদ দিয়ে কি আমেরিকা সম্পর্কে কোনো আলোচনা করা যায়? এটি হলো মার্কিন ইতিহাসের জন্য একটি লজ্জাজনক অধ্যায়।’
পনেরো শতকের শেষের দিকে লাখ লাখ আদিবাসী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। এদের বেশিরভাগই ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারীদের হাতে নিহত হয়েছেন।








