অমিত শাহের বক্তব্যে কোটি কোটি মুসলিম দুঃচিন্তায়
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে ভারতে আন্দোলন ক্রমশই আরও জমাট বাঁধছে। আর এর মধ্যেই বোমা ফাটালেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাতে দুঃচিন্তায় পড়েছে দেশটির কোটি কোটি মুসলিম।
ভোটার কার্ড থাকা মানেই নাগরিকত্বের প্রমাণ নয় বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর মতে, একমাত্র নাগরিক পঞ্জিতে (এনআরসি) নাম থাকলে তবেই প্রমাণিত হবে, কোনও ব্যক্তি ভারতের নাগরিক এবং সেই কারণেই গোটা দেশে দ্রুত এনআরসি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর সরকার।
অমিতের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে সর্বস্তরে। বিরোধীদের প্রশ্ন, এত দিন ধরে যাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করে এলেন, তাঁরা যদি নাগরিক না-হন, তা হলে কারা এ দেশের নাগরিক?
একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ‘দেশের বড় সংখ্যক মানুষের কাছেই আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড রয়েছে। সেগুলি কি নাগরিকত্ব নির্ধারণে যথেষ্ট নয়? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘না। ওই কার্ডগুলি নাগরিকত্ব প্রমাণ করে না। আধার তো নয়ই। কারণ আধার কার্ডের অন্য একটি উদ্দেশ্য রয়েছে। সেই জন্যই এনআরসি বানানোর দরকার রয়েছে।’’
আসাম মডেলে ঠিক হয়েছিল বাসিন্দাদের ভোটার কার্ড থাকতে হবে। সঙ্গে ভিত্তি-তারিখ ধরা হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ। তবে সে ধারণা নিয়ে আর এবারের এনআরসি হবে না। তাহলে প্রশ্ন হলো কীভাবে প্রমাণ করতে হবে যে সে ভারতের নাগরিক।
এদিকে, সংশোধনী নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে আসা সংখ্যালঘুরা, মানে হিন্দু, খিস্টান, বৌদ্ধরা ভারতের নাগরিকত্ব চাইলেই পেয়ে যাবে। তবে মুসলিমদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়। মানে স্পষ্ট যে টার্গেট করা হয়েছে ভারতে বসবাসরত মুসলিমদের যারা অন্যসব দেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে এসে সেখানে স্থায়ী বসবাস করছে।
আর এতই চিন্তায় ভারতে বসবাসরত কোটি কোটি মুসলিম। অনেকের ধারণা মুসণিমদের তাড়াতেই এই কাজ করছে বিজেপি সরকার।








