ধর্ষণের মামলায় জামিন নয়: আইনের বদল সময়ের দাবি

ফৌজিয়া জে. চৌধুরী
ধর্ষণের মতো নৃশংস, লজ্জাজনক এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত একজন আসামির জামিন লাভ—এই বিষয়টি শুধু আইনগত প্রশ্ন নয়, এটি ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে: এই ধরনের মামলায় জামিনের সুযোগ থাকাই এক ধরনের আইনি দুর্বলতা, যা নির্যাতিতা নারীর জন্য আরও ভয়ংকর মানসিক এবং শারীরিক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
একজন ধর্ষিতা মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর ট্রমার মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকেন। তার জীবন থমকে যায়। আর অপরদিকে, তার উপর নারকীয় নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনে মুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়? এ কেমন বিচার?
ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত যদি জামিন পায়, তাহলে নির্যাতিতা শুধু আইন নয়—সমাজ, পরিবার, এমনকি নিজের অস্তিত্ব থেকেও সরে যেতে বাধ্য হয়। তার জন্য এটি এক ধরনের দ্বিতীয়বার ধর্ষণ—এইবার আইনের মাধ্যমে।
আমার অনুরোধ, এই সংবেদনশীল অপরাধের বিষয়ে আমাদের বিচারব্যবস্থায় একটি সাহসী সংস্কার দরকার। আইনের চোখে ধর্ষণ যেন কখনও ‘জামিনযোগ্য’ অপরাধ না হয়—এমন সংশোধনই হোক আমাদের বিবেকের প্রতিফলন।
এই লেখা আমার ব্যক্তিগত মতামত হলেও আমি বিশ্বাস করি—মানবতার পক্ষে দাঁড়ানো এখনই জরুরি।
লেখক: ট্রমা-কেন্দ্রিক ও ট্রমা-সচেতন যত্নে বিশেষজ্ঞ।








