নিউইয়র্কে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত — সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের মুক্তির দাবি
[author title=”শাহ্ জে. চৌধুরী” image=”https://ruposhibangla.us/wp-content/uploads/2025/06/Shah-j-e1750099999941.png”][/author]
নিউইয়র্ক: শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্কে এক আলোচনা সভা ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়, যেখানে একইসঙ্গে গ্রেফতারকৃত সাংবাদিক, লেখক ও মানবাধিকার কর্মী শাহরিয়ার কবিরের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়।
উক্ত সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় ২৭ জুন, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬:৩০টায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে।
আয়োজক সংগঠন ছিল ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ফর সেক্যুলার বাংলাদেশ অ্যান্ড ট্রায়াল অব ওয়ার ক্রিমিনালস অব ১৯৭১ – ইউএসএ নিউইয়র্ক চ্যাপ্টার।
প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল শাহরিয়ার কবিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ
সমাবেশে বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “শাহরিয়ার কবিরকে পরিকল্পিতভাবে জেলে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
তারা অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন এবং বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত সকল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
সম্মানিত অতিথি ও বক্তারা:
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ড. নুরুন নবী।
বক্তব্য দেন:
• প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহ
• মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস
• কবি হাসান আল আব্দুল্লাহ
• লেখক ও কলামিস্ট শিতাংসু গুহ
• যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা প্রদীপ রঞ্জন কর
• বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক প্রেস মিনিস্টার সাজ্জাদ হোসেন
• শাহরিয়ার কবিরের বন্ধু শফিকুল ইসলাম
• একুশের চেতনা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মামুন
• আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী
• সাবেক ছাত্রনেতা মুজাহিদ আনসারি
• সাংস্কৃতিক কর্মী মিনহাজ আহম্মেদ শাম্মু
• কবি নাজনিন সিমন
• ৭১-এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সংগঠনিক সম্পাদক গোপাল স্যানাল
• সাংবাদিক পিনাকী তালুকদার
• লেখক স্মৃতি ভদ্র
• প্রজন্ম একাত্তরের নেতা শিবলী সাদিক
• এক্টিভিস্ট জয় তুর্য চৌধুরী।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ৭১-এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ইউএসএ শাখার সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া।
শ্রদ্ধা ও স্মরণ
অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থিত সুধীজনরা জাহানারা ইমামের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও নিরবতা পালন করেন। বক্তারা বলেন,
“তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবিতে প্রথম সোচ্চার কণ্ঠ। ১৯৯২ সালে তার নেতৃত্বেই গঠিত হয় ৭১-এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও গণআদালত।”
শাহরিয়ার কবিরের মুক্তির আহ্বান
বক্তারা বলেন, শাহরিয়ার কবির একজন আপসহীন কণ্ঠস্বর, যিনি যুদ্ধাপরাধ, মৌলবাদ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
১৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেফতারের ঘটনায় বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান:
• তাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আওতায় সুরক্ষা দিতে হবে
• চিকিৎসা, হুইলচেয়ার, ও পরিবারের সাথে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে
শাহরিয়ার কবির কে?
বাংলাদেশের খ্যাতিমান লেখক ও মানবাধিকার কর্মী শাহরিয়ার কবির শিশুসাহিত্যিক হিসেবেও বিশেষ পরিচিত।
তিনি ৭০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার অনেকগুলোই মৌলবাদ, মানবাধিকার ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক।
১৯৯৫ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন।
১৯৯২ সালে তিনি শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৯৪ সালে তার মৃত্যুর পর কমিটির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।








