Our Concern
Ruposhi Bangla
Hindusthan Surkhiyan
Radio Bangla FM
Third Eye Production
Anuswar Publication
Ruposhi Bangla Entertainment Limited
Shah Foundation
Street Children Foundation
September 13, 2026
হেডলাইন
Homeআন্তর্জাতিকপাকিস্তানে পাঞ্জাবে পাম্পগুলো ১ মাস ধরে তেলশূন্য

পাকিস্তানে পাঞ্জাবে পাম্পগুলো ১ মাস ধরে তেলশূন্য

পাকিস্তানে পাঞ্জাবে পাম্পগুলো ১ মাস ধরে তেলশূন্য

জ্বালানি সংকটে ভুগছে পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রদেশ পাঞ্জাব। পেট্রোল ঘাটতিতে প্রদেশটিতে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন। শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দেশটির ইংরেজি দৈনিক দ্য ডন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পাঞ্জাবের প্রত্যন্ত এলাকায় পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সেখানে পাম্পগুলোতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পেট্রোলের কোনো সরবরাহ নেই। আর এ সংকট ঘটছে তখনই যখন সরকার মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

অন্যদিকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না করায় এ সংকটের জন্য তেল বিপণন সংস্থাগুলোকে (ওএমসি) দায়ী করেছে পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম ডিলার অ্যাসোসিয়েশন (পিপিডিএ)। বর্তমানে পাঞ্জাবের প্রত্যন্ত এলাকার পাম্পগুলোতে কোনো জ্বালানি নেই। ফলে গাড়ি চালকদের শহরে গিয়ে পেট্রোল সংগ্রহ করা ছাড়া কোনো বিকল্প থাকছে না।

তবে পিপিডিএ’র এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ওএমসি অ্যাসোসিয়েশন অব পাকিস্তান (ওএমএপি)। তারা বলছে, জ্বালানির দাম বাড়ানোর বিষয়টি মাথায় রেখে আরো বেশি মুনাফা অর্জনের জন্য কিছু পাম্প পেট্রোল মজুদ করেছে। পাম্পগুলো কৃত্রিম ঘাটতি সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

পিপিপিডিএ পাঞ্জাবের তথ্য সচিব খাজা আতিফ দাবি করেছেন, ‘লাহোর এবং এর উপকণ্ঠে মোট ৪৫০টি পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পাম্পে কোনো পেট্রোল নেই’। তিনি ওএমসি ও দুটি আন্তর্জাতিক পরিবেশক সংস্থাকে এই জ্বালানির অপ্রতুলতার জন্য দায়ি করেন।

বৃহস্পতিবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) খাজা আতিফ ডনকে বলেন, ‘যদিও আগে তারা এমন করেনি, তবে ইদানিং তারা অন্যদের মতো আচরণ শুরু করেছে’।

তিনি জানান, বর্তমানে গুজরানওয়ালা, ফয়সালাবাদ, শেখুপ্রা, সারগোধা, সাহিওয়াল, কাসুরসহ বেশ কিছু জেলার অনেক পাম্প বন্ধ রয়েছে। তবে সংকট মারাত্মক আকার ধারন করেছে প্রত্যন্ত জেলাগুলোতে। সেখানে একমাসেরও বেশি সময় ধরে পেট্রোল পৌঁছায়নি। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘পেট্রোল পাম্পগুলো যদি মজুদের সঙ্গে জড়িত থাকত তবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন তাদের জরিমানা করত’।

এর আগে বুধবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে কাসুর, ভাই ফেরু, হাবিবাবাদসহ বেশ কয়েকটি এলাকার বিভিন্ন পাম্প এবং ডিপোতে অভিযান চালিয়ে কয়েক মিলিয়ন লিটার পেট্রোল জব্দ করেন সরকারি কর্মকর্তারা। তবে পাম্প মালিকদের দাবি, ওই ডিপোগুলো তাদের নয়, ওএমসির। বিষয়টি পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম বিষয়ক মন্ত্রী ড. মুসাদিক মালিককে জানানো হয়েছে।

পিপিপিডিএ পাঞ্জাবের তথ্য সচিব জানান, সরকারি কর্মকর্তারা পাম্পগুলোকে লক্ষ্য করছেন, কারণ সেখানে অভিযান চালানো সহজ। তার ভাষ্যমতে, পাঞ্জাবে ৫ হাজার পেট্রোল পাম্প রয়েছে, তার মধ্যে লাহোর শহরেই আছে ৪৫০টি। লাহোরে প্রতিদিন তিন মিলিয়ন লিটার জ্বালানির প্রয়োজন হয়, কিন্তু ওএমসিগুলো মাত্র ১.২ থেকে ১.৪ মিলিয়ন লিটার তেল সরবরাহ করে। তার দাবি অনুযায়ী, ওএমসিগুলোর এখনো ১ বিলিয়ন রুপির তেল সরবরাহ করা বাকি।

অ্যাসোসিয়েট প্রেস অব পাকিস্তানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী মুসাদিক মালিক জানিয়েছেন, বুধবার রাতে পাঞ্জাবের দুটো জেলায় ৯০০টিরও বেশি জায়গা পরিদর্শন করেছেন সরকারি কর্মকর্তারা। এ সময় তারা সাতটি পেট্রোল পাম্প সিলগালা করে দেন। জরিমানা করেন সাত লাখ ৮৫ হাজার রুপি। এছাড়া জ্বালানি মজুদের অভিযোগে ২১টি এফআইআর করা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের দলগুলো সারগোধা জেলার ৫৩০টি এবং ফয়সালাবাদ জেলার ৪৩৭টি পাম্প ও ডিপো পরিদর্শন করেন। মন্ত্রী মুসাদিক মালিক জানান, পাম্পগুলোর স্টোরেজ ট্যাংকে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা ভোক্তাদের কাছে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। বিষয়টি বিবেচনা করেই ওই পাম্পগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়।

Share With:
Rate This Article