খাদ্যশস্য চুক্তির একদিন পরেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি। এর পর থেকে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ খাদ্যসংকটে পড়ে। তুরস্ক এবং জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের চেষ্টার পর শুক্রবার খাদ্যশস্য নিয়ে চুক্তি করে রাশিয়া এবং ইউক্রেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা যেন একদিনেই ভেস্তে যেতে বসেছে! চুক্তির এক দিন পার না হতেই ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এর ফলে চুক্তির ভবিষ্যৎ তথা খাদ্যশস্য রপ্তানি কার্যক্রম চলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও পরিকল্পনা অনুযায়ী খাদ্যশস্য রপ্তানির কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছে কিয়েভ।
জাতিসংঘ মহাসচিব ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। রাশিয়ার বিরুদ্ধে খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ এনে ওয়াশিংটন মস্কোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, রাশিয়া যে কথা দিয়ে কথা রাখে না—এটাই তার প্রমাণ। হোয়াইট হাউজ কিয়েভকে ২৭০ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে।
ওডেসা বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইউক্রেন থেকে সমুদ্রপথে খাদ্যশস্য রপ্তানি শুরু করার বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সই হওয়ার পর দিনই ইউক্রেনের বৃহৎ একটি বন্দর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠেছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড সেন্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, দুটো কালিবর ক্ষেপণাস্ত্র কৃষ্ণসাগরে গুরুত্বপূর্ণ ওডেসা বন্দরে আঘাত করেছে। আর বাকি দুটোকে বিমানপ্রতিরোধী ব্যবস্থার সাহায্যে ভূপাতিত করা হয়েছে। স্থানীয় এমপি ওলেক্সি হোনচারেঙ্কো টেলিগ্রামে লিখেছেন হামলার পর শহরের বন্দরে আগুন ধরে যায়। তিনি লিখেছেন, ‘ঘৃণ্য ঐ লোকদের এক হাতে চুক্তি এবং আরেক হাতে ক্ষেপণাস্ত্র। এ কারণে আমাদের বিমান প্রয়োজন এবং কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার যত নৌবহর আছে সেগুলোকে ডুবিয়ে দিতে হবে। খাদ্যশস্য রপ্তানির জন্য এটাই হবে সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা।’ এই হামলায় কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে গতকাল রাত পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি।








