‘ধর্ষকরা যেন নায়ক’, বিলকিস বানুর হতাশ স্বামীর আক্ষেপ
ভারতে আলোচিত ধর্ষণ মামলার সাজাপ্রাপ্ত মূল আসামির মুক্তিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী বিলকিস বানুর স্বামী ইয়াকুব আলী। গুজরাট রাজ্যের বাসিন্দা বিলকিস ২০০২ সালে ধর্ষণের শিকার হন। সম্প্রতি এ ঘটনায় ১১ ধর্ষকের মুক্তির বিষয়টি সামনে আসার পর দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনা হয়েছে।
বিলকিসের স্বামী ইয়াকুব রবিবার হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ধর্ষকদের দেখে মনে হচ্ছে যেন নায়ক! ১৮ বছরের যুদ্ধ ব্যর্থ।
ইয়াকুব বলেন, ১১ আসামির মুক্তির পর তারা ভয়ে রয়েছেন।
ভারতের স্বাধীনতা দিবসের দিন গত সোমবার গুজরাটের কারাগার থেকে মুক্তি পান ১১ দণ্ডিত ধর্ষক। ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গর্ভবতী অবস্থায় বিলকিসকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছিলেন তারা। তার তিন বছরের মেয়েকে আছড়ে মেরে ফেলা হয়। সে সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় বিলকিসের পরিবারের আট সদস্য নিহত হন।
ধর্ষণের ঘটনায় ২০০৮ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন ওই ১১ জন। ১৫ বছর জেলে থাকার পর সুপ্রিম কোর্টে মুক্তির আবেদন জানান আসামিরা। এরপর সরকার আবেদন বিবেচনা করে স্বাধীনতা দিবসে ১১ জনকে মুক্তি দেয়।
ধর্ষকদের মুক্তির দিনে গুজরাটের গোধরা অঞ্চলের বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দপ্তরে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এ সময় বিজেপি বিধায়ক সিকে রাউজি বলেন, ‘এদের স্বভাব-চরিত্র ভালো। ’ কারাগার থেকে বের হওয়ার পর সাজাভোগ করা আসামিদের গলায় মালা পরিয়ে মিষ্টিমুখ করানো হয়। এসবের পরই ইয়াকুব তার হতাশার কথা জানান।
নিরাপত্তার জন্য গত কয়েক বছরে বারবার নিজেদের ঠিকানা বদলেছে বিলকিসের পরিবার। রবিবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ইয়াকুব বলেন, ‘বিলকিস এতটাই বিস্মিত যে এখন পর্যন্ত কারো সঙ্গে ঠিকভাবে কথাই বলছে না। …প্রথমে বিশ্বাসই হয়নি যে এমনটা হয়েছে। পরে জানলাম, হ্যাঁ। এটাই সত্যি। ’
ইয়াকুব বলেন, ‘সরকারের এই সিদ্ধান্ত এক ঝটকায় আমাদের ১৮ বছরের লড়াইকে শেষ করে দিয়েছে। গত দুই দশক একের পর এক আদালতে ছুটেছি। দেখে মনে হচ্ছে ধর্ষকদের নিয়ে উদযাপন শুরু হয়েছে। ওরা যেন নায়ক। ’
২০১৯ সালে আদালত ৫০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ ও ইয়াকুবকে একটি সরকারি চাকরি দেওয়ার নির্দেশ দেন। ইয়াকুব জানান, তিনি ভেবেছিলেন আবার নতুন করে শুরু করবেন। নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার কাজও শুরু করেছিলেন। এর পরই ওই আসামিদের মুক্তি দেওয়া হলো।
আনন্দবাজার পত্রিকা








