জনপ্রিয় ফুটবলারকে গ্রেপ্তার করল ইরান
ইরান সরকারের সমালোচনার অভিযোগে দেশটির এক সাবেক ফুটবলারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভোরিয়া ঘাফৌরি নামে ওই ফুটবলার গত বিশ্বকাপেও দলে ছিলেন।
তবে এবার জায়গা পাননি। ঘরোয়া লিগে নিয়মিত খেলেন তিনি। ইরান সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ভোরিয়ার মতো অন্য কেউ মুখ খুললে তাদেরও একই পরিণতি হবে।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম বড় নাম এই ভোরিয়া। ফুলদ খুজেস্তান ক্লাবের অনুশীলনের পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে ইরানে হিজাববিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন করার পাশাপাশি দেশের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্য বার্তা সংস্থাগুলো বলেছে, ভোরিয়ার বিরুদ্ধে ‘ইসলামিক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং জাতীয় ফুটবল দলকে ধ্বংস করার পরিকল্পনার অভিযোগও আনা হয়েছে।
ভোরিয়া আদতে কুর্দিশ। সে কারণেই তাকে গ্রেপ্তার হতে হলো কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ গত কয়েক দিনে ইরানের কুর্দিশ এলাকাগুলোতে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। ভোরিয়া এখন খেলেন ফুলাদ খুজেস্তান ক্লাবের হয়ে। আগে ইরানের প্রথম সারির ক্লাব এস্তেঘলালের অধিনায়ক ছিলেন ভোরিয়া। কিছুদিন আগেই তার চুক্তি বাতিল করা হয়। শোনা গেছে, সেটাও সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খোলার জন্যই।
এরপর তিনি ফুলদ খুজেস্তান ক্লাবে যোগ দেন। ইরানে হিজাববিরোধী আন্দোলনকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন ভোরিয়া। কুর্দিশ পোশাক পরে ছবিও দিয়েছেন। এতেই ক্ষেপেছে সরকার।
এদিকে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীতে গলা মেলাননি ইরানের ফুটবলাররা।
গত সোমবার (২১ নভেম্বর) ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের আগেই ইরানের অধিনায়ক আলিরেজা জাহানবকশ জানিয়েছিলেন, জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হবে কি না সেটা দলের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।
জানা ছেছে, ইরানের বেশির ভাগ ফুটবলারই জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার পক্ষে মত দেন। ক্যামেরায় দেখা গেছে, স্টেডিয়ামে হাজির অনেক সমর্থকও জাতীয় সঙ্গীতের সময় চুপ ছিলেন। কোনো ফুটবলারই জাতীয় সঙ্গীত গাননি।
উল্লেখ্য, দুই মাস আগে প্রতিবাদী ২২ বছর বয়সি মাহশা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে ফুঁসছে ইরান। রোজই বিক্ষোভ হচ্ছে সারা দেশে।
কিছু দিন আগেই ইরানের খ্যাতনামা শেফ মেহরশাদ শাহিদিকে পিটিয়ে খুন করেছে রেভলিউশনারি গার্ড ফোর্স। হিজাববিরোধী আন্দোলনে পথে নেমেছিলেন শাহিদি।
তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শাহিদির শেষকৃত্যের সময় প্রতিবাদে পথে নামে হাজার হাজার মানুষ।








